মেহেরপুর প্রতিনিধি : আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে বাংলাদেশের স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ভারতে যাওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল রণাঙ্গনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ এলাকার নিরাপত্তা ও ভৌগলিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং ১৪ এপ্রিল শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রথম দিকে চুয়াডাঙ্গাতে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ায় কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শপথ গ্রহণের স্থান চুয়াডাঙ্গার পরিবর্তে ইপিআর-উইং-এর অধীন মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা বৈদ্যনাথতলা নির্ধারণ করা হয়।
এক চরম সংকটকালীন সময়ে ভারতীয় বিএসএফ’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গোলক মজুমদার ও ৭৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল চক্রবর্তী বৈদ্যনাথতলায় এসে স্থানীয় সংগ্রাম কমিটি এবং তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক তৌফিক-ই-এলাহীসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করেন। বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমানে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ) জায়গা দেখিয়ে মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলেন।
আপামর জনতা স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে শুরু করে সারারাত ধরে মঞ্চ তৈরি, বাঁশের বাতা দিয়ে বেস্টনি নির্মাণ এবং স্থানীয়ভাবে যোগাড় করা চেয়ার-টেবিল দিয়েই আয়োজন সম্পন্ন করেন। আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম আসে ভারতের হৃদয়পুর বিএসএফ ক্যাম্প থেকে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।
১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে সকাল নয়টার দিকে বৈদ্যনাথতলায় পৌঁছান। ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশি শতাধিক সাংবাদিক এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও আসেন। বহু প্রতিক্ষিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল এগারটায়।
মেজর আবু উসমান চৌধুরীর পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় ক্যাপ্টেন মাহবুবউদ্দীন আহমেদ ইপিআর আনসারের একটি ছোটদল নিয়ে নেতৃবৃন্দকে অভিবাদন জানান। অভিবাদন গ্রহণের পর স্থানীয় শিল্পীদের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
পার্শ্ববর্তী গৌরিনগর গ্রামের প্রভাষক বাকের আলীর কোরআন তেলওয়াত এবং ভবরপাড়া গ্রামের পিন্টু বিশ্বাসের বাইবেল পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এরপরে আওয়ামী লীগের চিফহুইফ অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী বাংলার মুক্ত মাটিতে স্বাধীনতাকামী কয়েক হাজার জনতা এবং শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের সামনে দাঁড়িয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
ঐতিহাসিক সেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে চিফ হুইফ অধ্যাপক ইউসুফ আলী রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
এরপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাজউদ্দীন আহমেদের নাম ঘোষণা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শক্রমে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য আইন, সংসদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে খন্দকার মোশতাক আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান এবং অর্থ মন্ত্রী হিসাবে ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিত না থাকলেও বারবার উচ্চারিত হয় তার নাম।
মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্ণেল এমএজি ওসমানী এবং সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ পদে কর্ণেল আব্দুর রবের নাম ঘোষণা করা হয়।
এরপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ উপস্থিত সকলের সামনে ৩০ মিনিটের এক উদ্দীপনাময় ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বলেন, আজ থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হবে এ বৈদ্যনাথতলা এবং এর নতুন নাম হবে মুজিবনগর। তিনি ওই ভাষণে বিশ্ববাসীর কাছে নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিদান ও সামরিক সাহায্যের আহবান জানান।
বক্তৃতা এবং শপথগ্রহণ পর্ব শেষে নেতৃবৃন্দ মঞ্চ থেকে নেমে এলে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন মেজর আবু উসমান চৌধুরী। উপস্থিত জনতার মূহুর্মূহু জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মুজিবনগরের আম্রকানন। সব মিলিয়ে ঘন্টা দু’য়েকের মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই টানা নয় মাস যুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলার স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে ঠাঁই করে নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
দিনটি উপলক্ষে মুজিবনগর স্মৃতি কেন্দ্রে সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ বাহিনী, আনসার ভিডিপি, বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কুলের শিক্ষার্থী কর্তৃক গার্ড অব অনার প্রদান এবং কুচকাওয়াজ প্রদর্শণের আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল ৯ টায় মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভাপতিত্ব করবেন জন প্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।
দিনটিকে ঘিরে আগেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ।
শেষ হয়নি মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ
অর্থ বরাদ্দের অভাবে মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কাজ আজও শেষ হয়নি। কয়েক দফা নকশা পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকে কেটে গেছে ১৮টি বছর। বৃহৎ এই প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় বিনষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সব জিনিসপত্র। ফলে স্বাধীনতার শপথ ভূমি দর্শনার্থীদের মাঝে তুলে ধরার যে উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে তা বিফলে যাওয়ার পথে।
দেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে প্রথম রাজধানীখ্যাত মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর অন্যতম। মুজিবনগর আম্রকাননেই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নিয়েছিলেন। এরশাদ সরকারের আমলে প্রথম মুজিবনগরকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিকে ধরে রাখতে ২৩ স্তম্ভ বিশিষ্ট স্মৃতি সৌধ গড়ে তোলে।
এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ৮০ একর জমি অধিগ্রহণ করে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের কাজ শুরু করে। ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রল্পটির কাজ শুরু হলেও নির্মাণের দায়িত্বে ছিল গণপূর্ত অধিদপ্তর।
তবে নকশা ও পরিকল্পনাসহ যাবতীয় কাজের তদারকি ছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে। ২০০১ সালে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি পুরো কাজ। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রকল্পটির ব্যয় ৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকায় উন্নীত করে। তার পরও প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থাকায় অর্থের অভাবকেই দায়ী করেছে গণপূর্ত বিভাগের স্থানীয় দপ্তর।
মেহেরপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ জানান, বছর তিনেক আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্মৃতিকেন্দ্রের কাজ পরিদর্শন করেন। কেন্দ্রটির নির্মাণ দ্রুত শেষ করা, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ২০টি পাবলিক টয়লেট ও টিউবওয়েল স্থাপন এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিসংবলিত একটি ফটক নির্মাণের জন্য তারা বাজেট ও পরিকল্পনা প্রেরণের নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশনা মতো ২০১৪ সালে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পরিকল্পনা পাঠানো হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই বাকি নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই বাড়ছে নির্মাণ ব্যয়। এখন নির্মাণ কাজ শুরু হলে ৫ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে বলেও জানান তিনি।
মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স, দেশের সর্ববৃহৎ মানচিত্র, প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, প্লাজা, ছয় স্তর বিশিষ্ট গোলাপ বাগান, পর্যটন মোটেল, শিশু পরিবার, মসজিদ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক স্মৃতি ভাস্কর্য রয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে কিছু কিছু কাজ সম্পন্ন হলেও তা জনবলের অভাবে অরক্ষিত। ফলে দর্শনার্থীদের জন্যও খুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে নির্মাণ করা মূল্যবান স্থাপনা বছরের পর বছর অযন্তে অবহেলায় বিনষ্ট হচ্ছে। মন্ত্রী ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিশ্রুতির বেড়াজালে আটকে রয়েছে নির্মাণ কাজ।
মুজিবনগর স্মৃতিকেন্দ্রে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে আরো রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্তদের আবক্ষ মূর্তি কক্ষ, মিলনায়তন, প্রশাসনিক ভবন। রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত আরো কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন ও মিলনায়তনের কাজ কয়েক বছর আগে শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে দর্শনার্থীদের জন্য তা খুলে দেয়া হয়নি।
মানচিত্রের বাইরে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ম্যুরাল, ২৫ মার্চের কালরাত্রির চিত্র, পাকবাহিনীর নারী নির্যাতনের চিত্র, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান, ১২ আনসার কর্তৃক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান ও সেক্টর বন্টনসহ অরোরা, নিয়াজি এবং একে খন্দকারের উপস্থিতিতে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য সংবলিত ভাস্কর্য। সব মিলিয়ে মুজিবনগর দর্শনার্থীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এখানে বেড়াতে আসেন। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ১৭ এপ্রিল ঘিরে দৌড়ঝাপ করলেও মুজিবনগর দিবস পেরিয়ে গেলে তা আর চোখে পড়ে না। মুজিবনগরবাসী আমরা আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই না। চাই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।’
এদিকে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কেন্দ্রের কাজ পূর্ণাঙ্গ শেষ না হওয়ায় দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা কমপ্লেক্স ও স্মৃতি সৌধের কিছু কাজ দেখে ফিরে যাচ্ছেন। এতে হতাশ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
তবে স্মৃতি কেন্দ্র নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও এর নকশা পরিবর্তনের কারণে নির্মাণ কাজে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল। তিনি জানান, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তারা মূল নকশা থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নকশা পরিবর্তন করে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে ম্যুরাল ও বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার প্রয়োজন হচ্ছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস দেশ বিদেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান তিনি।

