নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্লগার ও লেখক হত্যাকাণ্ডে আক্রমণকারীদের অধিকাংশই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক পরিধির ভেতরে জঙ্গি দমনের কাজটি কঠোরতার সাথে পরিচালনা করে অনেকটাই নির্মূল করেছে সরকার।’
‘এরপরও ছিটেফোঁটা বিচ্ছিন্ন যে জঙ্গি আক্রমণে ব্লগার-লেখক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে আক্রমণকারীদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। বিচার চলছে, সাজা হচ্ছে। এতে সরকারের বিন্দুমাত্রও উদাসীনতা নেই।’ মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘জঙ্গি দমনে আমাদের সরকারের নীতি হচ্ছে জিরো টলারেন্স।’
রোববার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান ও শওকত মাহমুদকেও ভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আইনের শাসন কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয় না। গণতন্ত্রে সব মতের জায়গা রয়েছে, জঙ্গিদের নেই। স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমেও উসকানি, মিথ্যাচার, খণ্ডিত তথ্যে সাংবাদিকতার জায়গা নেই।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থার সঠিক প্রতিফলন হয়নি। রিপোর্টটিতে তথ্যে ঘাটতি রয়েছে। ফলে সঠিক চিত্রটি উঠে আসেনি।’ রিপোর্টটি আরেকবার যাচাই করার অনুরোধ জানান তথ্যমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে গণতন্ত্র সংকুচিত করে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক শাসন চলছে। এখানে গণতন্ত্র সংকুচিত করার কোনো সুযোগ নেই। সবাই তাদের ইচ্ছেমতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, নির্বাচন করছে। সুতরাং গণতন্ত্র সংকুচিত নয়। অপরাধ সংগঠনে বাধা দেয়া বা অপরাধীকে আইন বা বিচারের সম্মুখীন করায় গণতন্ত্র সংকুচিত হয় না।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার যখন সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করে দেশে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে তখন ঐ সকল অপশক্তি চোরাগোপ্তা ও গোপন হত্যাকাণ্ডের কৌশল নিয়ে ব্লগার ও সুফিবাদীদের হত্যা করে দেশে অস্বাভাবিক ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

