খুলনা প্রতিনিধি : সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রা উপজেলায় নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি, খেতখামার, বসতভিটা। বেড়েই চলেছে ভিটেমাটি হারানো উদ্বাস্তুর সংখ্যা।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশির গোলখালি, খাসিটানা, জোড়শিং, চরামুখা, ঘড়িলাল, উত্তর বেদকাশির হরিহরপুর, গাববুনি, গাজীপাড়া, কাশিরহাট, কাটকাটা, কয়রা সদরের হরিণখোলা-ঘাটাখালি, ৬ নম্বর কয়রা, মহারাজপুরের দশালিয়া, মঠবাড়ি, মহেশ্বরীপুরের কালিবাড়ি, শিকারিবাড়ির ৩০ কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধ কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।
সম্প্রতি এসব এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় অনেকে জায়গা-জমি, সহায়-সম্বল হারিয়ে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ ও বাগেরহাট, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতে ঠাঁই নিয়েছেন।
কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর ভাঙনের স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশির প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে গেছে একেবারেই।
এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ পোল্ডারের গাববুনি ও গাজীপাড়া বেড়িবাঁধের এক কিলোমিটারের বেশি জায়গা কপোতাক্ষ নদের ভাঙনের মুখে রয়েছে। গাববুনি বেড়িবাঁধের অবস্থাও খুবই নাজুক। স্থানীয় লোকজন কয়েক দিন ধরে গাববুনি বাঁধে মাটি ফেলে ভাঙন রোধে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছেন।
এদিকে, গত ৭ এপ্রিল রাতে হরিহরপুর বেড়িবাঁধের ১০০ ফুট জায়গা শাকবাড়িয়া নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাৎক্ষণিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় শতাধিক বসতভিটা ও চিংড়িঘের। কপোতাক্ষ নদের চরামুখা এবং আড়পাঙ্গাসিয়া নদীসংলগ্ন গোলখালি বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন যাবৎ ভাঙনের কবলে থাকায় ওই এলাকার লোকজন চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে।
চরামুখা গ্রামের চিংড়িঘের মালিক মো. রমজান আলী জানান, গত এক দশকে কপোতাক্ষের প্রবল ভাঙনে কয়েক দফা বেড়িবাঁধ সরানো হয়েছে। বহু পরিবার তাদের জায়গা-জমি, বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে পথে বসেছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ খ ম তমিজ উদ্দিন বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়ন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদিউজ্জামান বলেন, বর্তমানে কয়রায় নদীভাঙনের মাত্রা অনেক বেশি। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাউবো সাতক্ষীরা জোনের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুক আহমদ বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, জাইকার অর্থায়নে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধের কয়েকটি জায়গা ইতিমধ্যে ড্যাম্পিং করে প্লেসিং ব্লক বসানো হয়েছে।’

