ঢাকাSaturday , 16 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নেশার জন্য গেল বাড়ি-গাড়ি, বউও হারানোর পথে

Link Copied!

nesaনিজস্ব প্রতিনিধি : রাজধানীর তুরাগে নেশার জন্য বাড়ি ও গাড়ি বিক্রি করে সর্বশান্ত মামুন নামে এক ব্যক্তি। এখন তিনি অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নেশার কারণেই পারিবারিক দ্বন্দ্বে তার স্ত্রী সালমা আক্তারও কেরোসিনের আগুনে অগ্নিদগ্ধ হন। তিনি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন মৃত্যু যন্ত্রণায়।
মামুনের বড় ভাই ইমন সরকার জানান, মামুনের তিনটি বাড়ি ছিল। একটি গাড়িও ছিল। কিন্তু নেশাই সব কেড়ে নিল। নেশাগ্রস্ত হওয়ার পর সে একটি একটি করে বাড়ি বিক্রি করতে শুরু করে। পরে রানাভোলার প্রধান সড়কের পাশের বাড়িও বিক্রি করে ভিতরের দিকে জায়গা কিনে বাড়ি করে। পরবর্তীতে তাকে ধারদেনা করে একটি হাইয়েজ গাড়িও কিনে দেয়া হয়। কিন্তু তাও ধরে রাখতে পারলো না মামুন।
নেশার জন্য তার কোমড়ে সমস্যা হয়। যার ফলে ঠিকমত গাড়িও চালাতে পারতো না। অবশেষে গাড়িটিও বিক্রি করে ফেলে। গাড়ি বিক্রির ২০ হাজার টাকা ছাড়া সবই নেশার পিছনে শেষ করে দিয়েছে। সর্বশেষ বাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছে। এখন মামুন তুরাগ থানাধীন রানাভোলা এলাকার ৬ নম্বর রোডের জাফর মিয়ার বাড়ির ভারাটিয়া।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় স্ত্রী সালমার কাছে টাকা চায় মামুন। কিন্তু সেই টাকা যে নেশা করতে নিচ্ছে তা বুঝতে পারেন সালমা, তাই টাকা দেননি। টাকা না দেয়ার কারণে স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মামুন। এমনকি তাকে মারধরও করে।
আর এ ঘটনার পর ওই রাতেই আনুমানিক ১২টার দিকে বাথরুমে গিয়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সালমা। পরে তাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবন্নতি হলে পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।
মামুন ও সালমা দম্পতির পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শুভ (১১) ও মুনিয়া (৫) নামে দুই সন্তান রয়েছে।
অগ্নিদগ্ধ সালমার ভাই মনির বলেন, ‘সামান্য বিষয় নিয়েই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আমার বোনকে মারধর করতো মামুন। নেশার টাকার জন্যও প্রায়ই মারধর করতো। তাছাড়াও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মামুন একবার ঘরেও আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনায় তখন তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, সালমা নিজের গায়ে আগুন লাগায়নি, নেশার টাকা না দেয়ার জন্যই মামুন আগুন দিয়ে তাকে পুড়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোজাম্মেল হক জানান, অগ্নিদগ্ধ সালমার শরীরের ৫২ ভাগই পুড়ে গেছে। বর্তমানে তিনি বার্ন ইউনিটে মুমূর্ষু অবস্থায় কাতরাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, তুরাগে নেশার টাকার জন্য গত বুধবার রাত ১২টার দিকে পারিবারিক দ্বন্দ্বে অগ্নিদগ্ধ হন সালমা নামে এক গৃহবধূ। বর্তমানে তিনি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কেরোসিনের আগুনে তার মাথা, পেট, পিঠ ও দুই হাতের বেশকিছু অংশ পুড়ে গেছে।