আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে আশ্রয় নেওয়া সিরীয় শরণার্থী শিশুদের জোর করে কাজে নিয়োজিত করার ঘটনা পুরনো। তবে এর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। কাজের বিনিময়ে ওইসব শিশুদেরকে যে অর্থ দেয়া হচ্ছে তা খুবই সামান্য। কখনো ওদের কোন পারিশ্রমিক না দিয়ে কেবল খাদ্যের বিনিময়ে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে দেশটিতে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর করা একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননের নিয়োগকারীরা খুঁজে খুঁজে শিশুদেরকে পরিকল্পিতভাবে কাজে নিয়োগ দেন। তারা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদেরকে বেশি পছন্দ করেন। কেননা শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই অনুগত হয়। সেজন্য তারা অসহার শিশুদের দুর্বলতার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘প্রাপ্তবয়স্কদেরও জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এদের মধ্যে বয়স্ক নারীরা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এই সমস্যা বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলোর একটা। অবস্থা এমন যেন জোরপূর্বক শ্রমকে মানুষ আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে লেবাননে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শিশু কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ফ্রিডম ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিক গ্রনো জানান, বর্তমানে সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে লেবাননে থাকা ওই সিরীয় শিশুদের ভবিষ্যত অন্ধকারে পতিত হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা অসহায় শিশুদের খাদ্যের প্রতি গুরুত্ব দিলেও শিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে কেউ ভাবছে না।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার হাজার হাজার মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরাণার্থী হিসেবে বসবাস করছে। দেশটির গৃহহারা এইসব শরণার্থীর সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক ভাগ। এই অবস্থায় তারা বিভিন্ন দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কোন দেশেই তাদের বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি নাই। তাই যে যাচ্ছেতাই তাদের ব্যবহার করছে। তাদের মধ্যে শিশুদের অবস্থা আরো ভয়াবহ।

