চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নদীর নাব্যতা রক্ষায় খনন ও পলি উত্তোলনের জন্য দেশে তৈরি বিশ্বমানের তিনটি ড্রেজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করেছে কর্ণফুলী শিপইয়ার্ড।
বৃহস্পতিবার নগরীর সদরঘাটে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী শিপইয়ার্ডের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
কর্ণফুলী শিপ ইয়ার্ড সূত্র জানায়, ভোস্তা-এলএমজি কর্ণফুলী জয়েন্ট ভেঞ্চার কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের উদ্যোগে ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ তিনটি ড্রেজার তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী শিপ ইয়ার্ডে। প্রতি ঘণ্টায় তিন হাজার কিউবিক মিটার পলিমাটি উত্তোলনে সক্ষম ড্রেজার গুলো। হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ড্রেজার তিনটি ড্রেজার অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের বহরে যুক্ত হলো।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘এ তিনটি ড্রেজার পেয়ে আমাদের পলি অপসারণ সক্ষমতা ৬০ শতাংশ বেড়ে যাবে। সবমিলিয়ে বছরে প্রায় ৭২ লাখ ঘনমিটার পলি উত্তোলন করা যাবে। যদিও বছরে পলি অপসারণ দুই কোটি ২০ লাখ কিউবিক মিটারে উত্তোলন করতে হবে। তার জন্য আমাদের আরও ৩০ থেকে ৪০টি ড্রেজার লাগবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর এ নদীগুলো নিয়ে প্রথমবারের মত ভেবেছিলেন। তিনি তখনই বুঝতে পেরেছিলেন নদীমাতৃক এ দেশকে বাঁচাতে হলে নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তখনই সিদ্ধান্ত নিলেন নদীতে ড্রেজিং করতে হবে, পানি ধারণ ক্ষমতা ও নাব্যতা বাড়াতে হবে। সে কাজ তিনি তখন শেষ করে যেতে পারেননি। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি আবারো ড্রেজিংসহ নদী বাঁচাতে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।’
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর আহমদ খান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাসুদ আহমদ, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর খুরশিদ মালিক ও কর্ণফুলি শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল রশিদ প্রমুখ।

