আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের নতুন সরকার তাদের নেত্রী অং সান সুচির জন্য ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পেশ করার কথা রয়েছে। পার্লামেন্ট সদস্যদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
পার্লামেন্টে এ প্রস্তাবটি পাস হলে মিয়ানমারের নতুন সরকারে প্রধানমন্ত্রীর মতই ভূমিকা পালন করতে পারবেন সুচি। তার এই ক্ষমতার মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের মধ্যে এক ধরণের যোগসূত্র তৈরী হবে।
সুচির নাম উল্লেখ করে এ খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়, তার দায়িত্ব হবে পার্লামেন্টকে পরামর্শ দেয়া এবং প্রয়োজনে তিনি যে কোন বৈঠক পরিচালনা করার ক্ষমতা পাবেন। এই পদটি অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য। প্রেসিডেন্টের পদের ন্যায় এ পদেরও মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
পার্লামেন্ট সদস্যরা জানান, এ প্রস্তাবটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষে উপস্থাপন করা হবে। এর ওপর আলোচনা শেষে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটি অনুমোদন করা হবে। পরে এটি পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষে উত্থাপন করা হবে।
বুধবার অং সান সুচির ঘনিষ্ঠ সহযোগী উ থিন কিয়াও মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পরদিনই এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ৫০ বছর পর সামরিক শাসনের অবসানের পর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে একটি নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। দেশের জনগণের প্রত্যাশা সুকির দলের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা এবং নতুন করে রাজনৈতিক শক্তির গতিবেগ সঞ্চার করতে পারবে।
গত নভেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বিশাল জয় পায়। তবে সংবিধিানিক জটিলতার কারণে সুচি দেশের প্রেসিডেন্ট হতে না পারেননি। তখন ‘প্রেসিডেন্টের উর্ধ্বে থেকে’ দায়িত্ব পালনের কথা ঘোষণা করেছিলেন সুচি। নতুন পদ সৃষ্টির এই উদ্যোগ তার সে কথারই ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে তাকে নতুন সরকারের মন্ত্রী হওয়ারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তিনি পররাষ্ট্র, শিক্ষা, জ্বালানি শক্তি ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এই চারটি মন্ত্রণালয়ের যে কোনো একাটির দায়িত্ব নিতে পারেন।

