ঢাকাWednesday , 30 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমবে উৎপাদন খরচ, দাম কমবে কি?

Link Copied!

oillঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অবশেষে জ্বালানি তেলের দাম কমাচ্ছে সরকার। প্রথমে কমানো হবে ফার্নেস অয়েলের দাম। এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যতম জ্বালানি। ফলে সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচ কমে যাবে। অবশ্য তাতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এটি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করা হবে।
সরকার আরো জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তেলের দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুননির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথমে ফার্নেস অয়েলের দাম কমবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে পরিপত্র জারি করা হবে।
কত কমতে পারে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফার্নেসের দাম লিটারে ১৫/১৬ টাকা কমতে পারে। অন্যান্য জ্বালানি তেলের বিষয়ে এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়েই ফার্নেস অয়েলের দাম কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সূত্র। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রীষ্মের বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে বেশি দামে তেল কেনায় সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন খরচ বেশি পড়ছে। অথচ বেসরকারি কোম্পানিগুলো নিজেরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে ফার্নেস অয়েল কিনছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো নিজেদের চাহিদার ৩০ শতাংশ তেল সরাসরি আমদানি করছে। ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয়ও সরকারি কেন্দ্রের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
পিডিবির তথ্য মতে, যেসব বেসরকারি কোম্পানি নিজেরা ফার্নেস অয়েল এনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তাদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবির ব্যয় হচ্ছে সর্বোচ্চ ৭ টাকা নিচ্ছে। আর সরকারিকেন্দ্র বিপিসির কাছ থেকে তেল নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে খরচ হচ্ছে ১৩ টাকার মতো।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ লোকসানের বিষয়টি সম্প্রতি সরকারে উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরে দাম কমানোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করে। জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করলে গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবি আর্থিক সংকটে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ।
দেশে বর্তমানে তরল জ্বালানি চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদনের পরিমাণ তিন হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ্র থেকে আসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। পিডিবি দৈনিক ভিত্তিতে জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করে। গত শনিবার ৪৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কেনা হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা চলতি বছর গ্রীষ্মে দৈনিক ৫০ কোটি টাকার তরল জ্বালানির প্রয়োজন হবে।
এখন ৬৮ টাকা প্রতি লিটার ডিজেল এবং কেরোসিন বিক্রি করে বিপিসি সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দেয়ার পরও ২৬ থেকে ২৭ টাকা লাভ করছে। প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল ৬০ টাকায় বিক্রি করে একই পরিমাণ লাভ হচ্ছে। অন্যদিকে পেট্রোল ৯৬ টাকা আর অকটেন ৯৯ টাকায় বিক্রি করে লাভ করছে ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের কয়েক দফা দরপতনের পরও দেশের বাজারে দাম কমানো হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ছিল। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বারবার দাম কমানোর পরমর্শ দিয়েছেন সরকারকে। বিশ্ববাজারে সহসা জ্বালানি তেরের দাম বাড়বে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতিবিদদের দাবি, তেলের দাম গড়ে ১০ শতাংশ কমানো হলে দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি  হবে।
দেশে না দাম কমায় তেল বিক্রিতে লাভ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সরকার পক্ষে থেকে বলা হচ্ছিল, বিপিসির দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত লোকসান পুষিয়ে নিতেই দাম কামনো হচ্ছে না।
সূত্র জানিয়েছে, বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করায় গত ১৯ বছরে বিপিসির পুঞ্জিভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকা।
তবে সংস্থাটি গত দুই বছর ধরে লাভ করছে। গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) বিপিসি পাঁচ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। আর চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ৭ হাজার কোটি টাকা লাভের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এরমধ্যেই অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মুনাফা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম বজায় থাকলে বিপিসি চলতি অর্থ বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা লাভ করবে বলে খাত সংশ্লিষ্টদের ধারণ।
সূত্র মতে, বর্তমানে বিপিসি তেলভেদে প্রতি লিটারে ১৩ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত লাভ করছে।
দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। যার প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয়।  জ্বালানি তেল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় পরিবহন খাতে, ৪৫ শতাংশ। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ২৫ শতাংশ, কৃষি খাতে ১৯ শতাংশ, শিল্প খাতে ৪ শতাংশ এবং গৃহস্থালী ও অন্যান্য খাতে ৭ শতাংশ।