আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনে ইরানের মদদপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলার এক বছর পূর্তিতে রাজধানী সানায় জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
গত বছরের মার্চে জোটের হামলা শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৬২০০ জন নিহত হয়েছে। যদিও ওই হামলা শুরু হওয়ার পর সৌদিতে নির্বাসিত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদি পেুনরায় ক্ষমতায় বসেছেন। হুতিদের আগ্রাসী অভিযানও থেমে গেছে। তবে এই অভিযান রাজধানী সানা থেকে হুতিদের বিতাড়িত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুতি বাহিনী সানা দখল করে নেয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট হাদি। এ ঘটনার ছয় মাস পর ইয়ামেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
শনিবার ওই অভিযানের এক বছর পূর্তিতে রাজধানী সানায় ব্যাপক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ সমাবেশ। এর আগে ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ’র পদত্যাগের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট সালেহ হুতিদের মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ইয়েমেনে আগামী মাসে অস্ত্রবিরতি ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার আগে শনিবার ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হল। শনিবারের ওই বিক্ষোভের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে সালেহ’র উপস্থিতি। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তার প্রথম জনসমাবেশ। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘আমরা শান্তি চাই এবং এজন্য সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো রকম শর্ত ছাড়াই সরাসরি আলোচনায় বসতেও রাজি আছি।’
এদিকে আগামী ১০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে এক সপ্তাহের অস্ত্রবিরতি শুরু হতে যাচ্ছে দেশটিতে। পরে ১৮ এপ্রিল থেকে কুয়েতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করবে সরকার ও বিদ্রোহী হুতিরা। যদিও এর আগের দুই দফা শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

