আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্যাপক দর কষাকষির পর ৭ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছিল পোল্যান্ড। কিন্তু মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ভয়াবহ হামলার পর শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে দেশটি।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বেয়াতা সিদলো বুধবার বলেছেন, তিনি কোনো শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার সম্ভবনা দেখতে পাচ্ছেন না। চলতি বছর প্রাথমিকভাবে ৪শ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটি। আগামী তিন বছরে বাকিদেরও নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ব্রাসেলস হামলার পর কোনো শরণার্থী নিচ্ছে না দেশটি।
বরাবরই শরণার্থীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল পোল্যান্ডের সাধারণ মানুষ ও সামাজিক মাধ্যমগুলো। গতবছর শরণার্থী বিরোধী বিক্ষোভে ভরে ওঠেছিল তাদের সড়কগুলো। এগুলোর নেতৃত্বে ছিল কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠী ‘ন্যাশনাল র্যাডিক্যাল ক্যাম্প। গত অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেইজ দুদাও শরণার্থীদের ‘সম্ভাব্য মহামারী’ থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের রক্ষার করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন অন্য কর্মকর্তারাও। প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর গত নভেম্বরে পোলান্ডের পোজনান সড়কে হামলার শিকার হয়েছিলেন সিরিয়ার রাকা থেকে আগত এক খ্রিস্টান শরণার্থী। একদল মানুষ ‘তাকে হত্যা কর’ বলে ওই তরুণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
শুরু থেকেই শরণার্থী বিরোধী অবস্থানে রয়েছে পোলান্ড। পরে ইইউ’র জোরাজুরির কারণে তারা ৭ হাজার শরণার্থী নিতে রাজি হয়। এখন ব্রাসেলস হামলার অজুহাতে সেই ঘোষণা থেকেও সরে এল পোল্যান্ড। মঙ্গলবার ওই হামলার পর দেশটিতে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।

