বিনোদন প্রতিবেদক : নাই কাজ তো খই ভাজ! অভিনেত্রী পপির অবস্থাও তাই। নেই খবরে। মুঠোফোনটাও বন্ধ পাওয়া যায় বেশিরভাগ সময়। এ যেন স্বেচ্ছা নির্বাসন। গত তিন চার বছর ধরেই এমনটা চলছে। হাতে নেই উল্লেখ করার মতো সিনেমা। নতুন কোনো সিনেমায় নির্মাতারা পপিকে ভাবছে না খুব একটা। অপু বিশ্বাস, মাহিয়া মাহি আর ববিদের যুগে পপি অনেকটা পালছেঁড়া নৌকার মতো। গন্তব্যহীন। পথটাও নেই জানা। অথচ বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অভিনয়ের জন্য গ্ল্যামার, ফিগার সবই আছে তার। সিনেমায় টিকে থাকার লড়াইয়ে শরীরটাকে ফিট রেখেছেন বরাবরই। অভিনয়ে নিয়মিত হতে শেষ চেষ্টাটা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ফলাফল শূন্য। নির্মাতাদের হিটলিস্ট থেকে মুছে গেছে তার নাম। কারণটা কী?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্মাতা বললেন, ‘বয়সের কিছুটা ছাপতো পড়েছেই। কিন্তু দৈহিক আকারই কাল হয়েছে পপির। তার মতো এমন লম্বা-চওড়া ফিগারের সুদর্শনা নায়িকা আমাদের দেশে বিরল। তার পাশে দাঁড়ানোর মতো নায়ক নেই আজকাল। তাই হালের নতুন নায়কদের সঙ্গেও পপিকে ভাবতে পারছেন না পরিচালকরা। এটাও একটা বড় কারণ। আবার এটাও বলা যায়, পপির মতো নায়িকাকে যথাযথ ব্যবহার করতে না পারার ব্যর্থতাও পরিচালকদের।’
আরেক নির্মাতার সাফ জবাব, ‘প্রযোজকরা সিনেমায় টাকা লগ্নি করেন কিছু লাভের আশায়। কিন্তু পপিকে তো এখন আর দর্শকরা সেভাবে দেখে না। তাই স্বেচ্ছায় লোকসান কে চায়!’
দর্শকরা কি তাহলে পপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফেরা যাক। গতবছর ২৯ মে মুক্তি পেয়েছিল পপি অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দুই বেয়াইয়ের কীর্তি’। কিন্তু ছবিটি মোটেই ব্যবসা করতে পারেনি। বরং মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এছাড়া পপির মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ গড়পড়তা কোনো সিনেমাই ব্যবসা করতে পারেনি খুব একটা। হয়তো এই কারণেই মিডিয়া থেকে দিনে দিনে শামুকের মতো গুটিয়ে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।
অথচ একটা সময় ইন্ডাস্ট্রি ছিল তার দখলে। শাসন করেছেন বড়পর্দা। অভিনয় করেছেন একের পর এক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রে। তার মারকুটে অভিনয়ে মুগ্ধ হতেন দর্শকরা। অভিনয়ের কারিকুরিও ছিল তার মধ্যে। পেয়েছেন তিন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই পপিই এখন অনেকটা বেকার। হাতে যে দু’একটা সিনেমা আছে সেগুলো আদৌ কবে মুক্তি পাবে তা নিশ্চিত নয়।
সম্প্রতি জসিম উদ্দিনের ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ নামে একটি চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিধিবাম! মাসখানেকের মাথায় রহস্যজনক কারণে তাকে সিনেমা থেকে বাদ দেয়া হয়। তার বদলে নেয়া হয় নবাগতা সূচনা আজাদকে। তবে, চলচ্চিত্রটি থেকে নিজের বাদ পড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন পপি। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সবকিছু মিলে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছি।’ কিছুটা মৌনতা নিয়ে পপি বললেন, ‘এখন থেকে বুঝে শুনে ফিল্ম করবো। সম্প্রতি ডিএ তায়েবের সঙ্গে ‘সোনা বন্ধু’ চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছি। চলচ্চিত্রটি মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছি।’
তবে, বড়পর্দায় সুবিধা করতে না পারলেও ছোটপর্দায় টুকটাক অভিনয়ে দেখা যায় তাকে। ঈদে-উৎসবের বিশেষ নাটকে কাজ করছেন। নিজেকে ব্যস্ত রাখতে বিজ্ঞাপনেও দেখা যাচ্ছে তাকে। সম্প্রতি মোস্তফা কামাল রাজের একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে আবার ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পপি। কিন্তু তা আর হলো কই?
১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখা পপি তার ক্যারিয়ারে পেয়েছেন বহু সুপারহিট ছবির দেখা। প্রথম ছবি ‘কুলি’-তে তিনি অভিনয় করেন ওমর সানীর বিপরীতে। প্রথম ছবিই পায় ব্যবসায়িক সাফল্য। এরপরই মুক্তি পায় সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন শাকিল খান। এরপর রুবেলের সঙ্গে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত ‘চারিদিকে বিদ্রোহ’ এবং মান্নার সঙ্গে মনতাজুর রহমান আকবরের পরিচালনায় ‘কে আমার বাবা’ ছবিতে অভিনয় করেন পপি। মান্নার প্রযোজনায় মালেক আফসারী পরিচালিত ‘লাল বাদশা’ ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চলে যান পপি। এরপর শুরু হয় পপির একের পর এক ছবিতে অভিনয়।
শাকিল খান, ওমরসানী ও মান্না ছাড়াও পপি এ যাবত রিয়াজ, ফেরদৌস, বাপ্পারাজ, আমিন খান, শাকিব খান এবং সবশেষ ইমনের বিপরীতে ছবিতে অভিনয় করেছেন।

