নিজস্ব প্রতিবেদক : সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে এ পদ্ধতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, ‘রাতারাতি এ পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর জন্য সময় লাগবে।’
তবে পাঠ্যবিষয়কে ভালোভাবে আয়ত্ত ও প্রয়োগের উদ্দেশ্যে সৃজনশীল পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন।
সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিকে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন তাদেরও একহাত নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেছেন, ‘অনেক প্রবীণ শিক্ষাবিদ বলছেন, সৃজনশীল পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। এ পদ্ধতি শিক্ষকরাই ঠিক করেছেন, আকাশ থেকে তো আসেনি।’
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে আয়োজিত প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে প্রশিক্ষিত শিক্ষক সঙ্কটের কথা স্বীকার করেছেন নাহিদ। বলেছেন, ‘আমারা কিছু সংখ্যক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত। এখন চ্যালেঞ্জ তাদেরকে প্রশিক্ষিত করা। আমরা সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছি।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকস্বল্পতার জন্য পদ না থাকাকে দায়ী করে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘যে পদগুলো আছে সে পদে নিয়োগ দেয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব এবং যারা পদে আছেন তাদের অযোগ্যতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজ এ সঙ্কট বিরাজ করছে।’
পিএসসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য পিএসসির পাশাপাশি আমাদের একটি মনিটরিং সেল কাজ করবে।’
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জাতির প্রতি দায়বদ্ধ থেকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘জনগণের টাকায় আমার বেতন, আপনাদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করে সরকার। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।’
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শামছুন নাহারের সভপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাধমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক প্রফেসর হামিদুল হক।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

