ঢাকাFriday , 11 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুদ্ধাপরাধের বিচার বাইরে সমালোচিত হলেও দেশে প্রশংসিত

Link Copied!

JOYনিজস্ব প্রতিবেদক : সজীব ওয়াজেদ জয়একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকায় নিবন্ধ লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৭ মার্চ) প্রকাশিত নিবন্ধটির বাংলা অনুবাদ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার বিভিন্ন সময়ে বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। তবে দেশের ভেতর এই বিচার প্রক্রিয়া বেশ জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের (আইসিটি) রায়গুলো ঘোষণার পরপরই দেশে প্রায় জাতীয় ছুটির মতো আবহ তৈরি হয়। আপামর মানুষ ট্রাইব্যুনালের বিচারের সমর্থনে দেশপ্রেমের গান গেয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে রাস্তায় নেমে আসে এবং শিশুদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে।
সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধী ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পরও বাংলাদেশিরা বিচার প্রক্রিয়ার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখিয়েছেন। এই দুই যুদ্ধাপরাধী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন ও ১৫ জনকে হত্যা এবং প্রায় ৪৫০টি ঘরবাড়ি লুট করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে বাংলাদেশে এরকম প্রতিক্রিয়া অহরহই দেখা যায়।
২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে যুদ্ধাপরাধী মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় হওয়ার পর হাজার হাজার মানুষ ঢাকা মহানগরী এবং অন্যান্য নগরীতে দুইদিন ধরে রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। গত নভেম্বরে যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর জনগণ একইরকম সমর্থন দেখিয়েছেন।এই জনসমর্থনের লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজ সম্পূর্ণ করা এবং অন্য অপরাধীদের সাজার বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া, যারা ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এবং পাকিস্তানের গণহত্যায় সহযোগিতা দিয়েছে, যার ফলে ৩০ লাখ বাংলাদেশি শহীদ হয়েছিলেন।
এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের বিরোধিতাকারীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত খুলনা বিভাগেও ৬৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপকভাবে বিজয়ী হওয়ার পেছনে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবার চালু করার অঙ্গীকার অন্যতম কারণ ছিল। তাহলে বাংলাদেশের ভেতরে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে ভিন্নমতের কারণ কী?’
কারণ দেশের বাইরে যারা অবস্থান করেছেন তারা কখনই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং গণহত্যার পরিস্থিতিতে বসবাসের বিষয়টি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন না। নির্যাতিত বা নিহত ব্যক্তির পুত্র বা কন্যা হওয়া এবং কয়েক দশক ধরে অপরাধীদের বিচার এড়িয়ে ঘুরেফিরে বেড়াতে দেখার অনুভূতি কী, তারা তা বুঝতে পারেন না।
ন্যায় বিচারের জন্য বাংলাদেশিদের গভীর তৃষ্ণা রয়েছে। যুদ্ধের অস্ত্র হচ্ছে ধর্ষণ আর নির্যাতন। যখন পাকিস্তানের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা যুদ্ধে পরাজিত হতে চলেছে তখন পাকিস্তান চিকিৎসক, শিল্পী, শিক্ষক ও লেখকসহ যত বেশি সম্ভব বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে শুরু করে।
কিন্তু এই নিকৃষ্ট নৃশংসতায় যারা লিপ্ত ছিল তারা ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বিচার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কয়েকটি ক্যু, সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল সবচেয়ে নিষ্ঠুর যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশ সরকারের নেতৃস্থানীয় পদে যাওয়ার পথ করে দিয়েছিল।
নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা এই ধারার অবসান ঘটান। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করেন যা মূলত তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান গঠন করেছিলেন এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তার রাজনৈতিক শত্রুরা তা বাতিল করেছিল।
শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মানদণ্ড রোম সংবিধি অনুসরণে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। ফলে এই বিচার প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হয়েছে। সে কারণেই, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইব্যুনালে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
এছাড়া, বাংলাদেশের আইসিটি হচ্ছে বিশ্বে একমাত্র যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল যা তাদের দেওয়া রায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যেমন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত। বাংলাদেশিরা তা জানেন।
দেশের বাইরের অনেকে আইসিটির সমালোচনা করে বলেছেন যে, এই ট্রাইব্যুনালের মামলার অনেক আসামি বিরোধীদলের বিশেষ করে জামায়াত ইসলামীর সদস্য। উল্লেখ্য, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সদস্যসহ অন্যান্য দলের সদস্যদেরও এই ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধের তদন্তে যদি দেখা যায়, জামায়াত সদস্যরা অপরাধ করেছেন, সেক্ষেত্রে তারা একটি বিরোধী দলের সদস্য হওয়ার কারণে কি বিচার থেকে রেহাই পেয়ে যাবেন? তাই বলে কি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও গণহত্যার শিকার এবং দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যদের জন্য কোনও ন্যায় বিচার থাকবে না?
অন্যদিকে, জামায়াতের কিছু নেতার বিচার হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের দাবির বিরোধিতা করেছিল এবং এই প্রয়াস রোধ করতে পাকিস্তানি জান্তাকে সহযোগিতা করেছিল।
বাংলাদেশের জনগণ যেকোনও ফাঁকা বুলি সহজেই বুঝতে পারে। এই যুদ্ধাপরাধীরা কী করেছিল, তা তারা নিজ চোখে দেখেছেন। ট্রাইব্যুনাল কতটুকু স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে পরিচালিত সেটিও তারা ঘনিষ্ঠভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা ন্যায় বিচারের জন্য এই সংগ্রামে বিশ্বাসী।
তাই, এসব বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে এবং সে কারণেই তা চলবে এবং অব্যাহত থাকা উচিত।