ঢাকাFriday , 11 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা- লন্ডন রুটে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞায় ৪০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা

Link Copied!

bazarনিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রিটেনের বাজারে বাংলাদেশি সব্জিবাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে করে ঢাকা-লন্ডন রুটে পণ্য পরিবহনে ব্রিটিশ সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্রিটেনে সব্জি আমদানিকারকদের সংগঠন ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ভেজিটেবল এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার।
তিনি জানান,দ্রুত এই সংকট নিরসনের উদ্যোগ না নিলে এবং ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে ভিয়েতনাম, মায়ানমার কিংবা থাইল্যান্ডের উপর নির্ভর করা ছাড়া কোন বিকল্প থাকবে না। এছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে গিয়ে সব্জি আমদানিকারকরা সব্জির মান নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। কারণ, ঢাকা বিমানবন্দরে কোনও হিমাগার নেই। ঘন্টার পর ঘন্টা তাজা শাক-সব্জি বিমানবন্দরে ফেলে রাখার কারণে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পাইকারদের আড়ৎ থেকে বিমান বন্দরে পৌঁছাতে গিয়েও আমদানিকারকরা নিজেদের উদ্যোগে কোল্ড চেইনের রক্ষণাবেক্ষণ না করায়, লন্ডনে আসতে আসতে সব্জি আর টাটকা থাকে না। অথচ থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা সব্জি বিশেষ পদ্ধতিতে প্যাকেটজাত করার কারণে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত মান নষ্ট হয় না।
ব্রিটেনের বাজারে বাংলাদেশি সব্জিসব্জি আমদানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমর উদ্দীন চৌধুরী বলছেন, প্রবাসে তারা দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে বাংলাদেশি শাক-সব্জির বিশাল বাজার তৈরি করেছেন, যা থেকে বাংলাদেশের প্রতি বছর ৪০ থেতে ৬০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বৈদেশিক মুদ্রা লাভ হয়ে থাকে। এই সব্জি আমদানি প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে কয়েক হাজার বাংলাদেশি সম্পৃক্ত রয়েছেন। পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়িকভাবে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বেকার হয়ে যাবে। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য এয়ারলাইন্সে পণ্য পরিবহন করলে ট্রানজিটের কারণে ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাবার পাশাপাশি ট্রানজিট টাইমের কারণে দীর্ঘ সময়ে সব্জির গুণগতমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন অবশ্য বলছেন, ব্রিটেনের পরিদর্শক দল ঢাকা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার ব্যাপারে ৭০ শতাংশ সন্তুষ্ট। আগামি ৩১ মার্চের মধ্যে বিমানবন্দরের ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যপারে তিনি আশাবাদী। কিন্তু আমদানিকারকরা বলছেন, ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলো,সেখানে তারা নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত না হওয়ায় চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশকে এই সময় সীমা বেঁধে দেয় ব্রিটিশ অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। গত চারমাসেও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ সন্তোষজনক কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইতিপূর্বে স্যালমোনেলা ভাইরাসের কারণে পান, সুগন্ধি লেবুসহ প্রায় দশ প্রকার সব্জির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘ এক বছরেও সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যাপারে অগ্রগতি না হওয়ার কারণে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে দশ ধরণের সব্জি ইউরোপে রফতানি করা যাচ্ছেনা, তাই আগামি দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে, বিমান মন্ত্রীর এমন আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না ব্রিটেনের ব্যবসায়ীরা। তবে শুধু পণ্য রফতানি নয়, সংকট সমাধান না হলে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।