ভোলা প্রতিনিধি : শাহবাজপুর গ্যাস দিয়ে ভোলায় ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর এবার নতুন করে আরো যোগ হচ্ছে ২শ ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর মধ্যে দিয়ে ভোলা তথা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর জন্য দীর্ঘ এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে।
এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালুর জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২০১৬ জুন কিংবা জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ তোফায়েল আহমেদ।
এদিকে, এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে এখন ভোলায় সারকারখানাসহ বেশ কিছু শিল্প-প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে এখানে। এতে করে কর্মসংস্থান হবে ভোলাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার বেকার যুবক-যুবতীদের। ফলে আরো উন্নয়নশীল জনপদে রূপান্তরিত হবে গ্যাস আবিষ্কারস্থল এ উপজেলাটি।
ইতোমধ্যেই বোরহানউদ্দিনের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সার্বিক কাজটি শেষ হওয়ার খোঁজ-খবর নিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আলহাজ তোফায়েল আহমেদ। এছাড়াও স্থানীয় এমপি আলহাজ আলী আজম মুকুল, স্থানীয় প্রশাসন ও বাপেক্স ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একাধিকবার এ কাজের পরিদর্শন করেছেন।
সূত্র বলছে, শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ গ্যাসকে কাজে লাগিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তারই ধারাবাহিকতায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার নাদীরার চর এলাকায় প্রায় ৩০ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে ২শ ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রায় দুই হাজার কোটি ব্যয়ে ১৮ মাস ধরে এ কাজটি শেষ করেছে। কাজটি অর্থায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও জিওবি ফান্ড আর বাস্তবায়নে রয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এ কাজটি করছেন একটি চায়না কোম্পানি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকজন শিল্পপতি এ উপজেলায় ঘুরে গেছে এবং তারা এ উপজেলায় বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার কথাও ভাবছেন।
বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর মধ্যে একদিকে যেমন এ অঞ্চলের বিদ্যুৎতের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বেকারদের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নশীল জনপদে পরিণত হবে। এছাড়া ইতোমধ্যে এ উপজেলা থেকে বরিশাল বিদ্যুৎসংযোগ দেয়ার কাজ চলছে পুরোদমে।
এদিকে, ওই ২শ ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশেই আরো ২শ ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রে গড়ে তোলার জন্য জমি অধিক গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসভিত্তিক ৪শ ৫০ মেগাওয়াটের পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়েছে এ উপজেলায়। এতে ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ভাগ্যে পরিবর্তনের সম্ভবনা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে পিডিবির দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দিনরাত কাজ করে খুব দ্রুত শেষ করেছেন বলে তিনি জানান। আগামী জুনে-জুলাই ২০১৬ সালের মধ্যে এ কাজের উদ্বোধন করা হবে।
কাজ শেষ দেখে অর্থায়ন দাতা সংস্থারা সন্তোস প্রকাশ করেছেন। আর বিদ্যুৎ থেকে এ উপজেলায় বিভিন্ন শিল্প কারখানাসহ অনেক আধুনিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠার সম্ভবনার কথাও জানান তারা।

