জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এ ধরনের স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে একের পর এক লোকবল নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, গত মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তার একান্ত সচিব (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) আমজাদ হোসেনের মেয়ে দিলারা হোসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন। এর আগে গত ১৩ জুলাই ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে একইভাবে উপাচার্য তার একান্ত সচিব মো. ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী তাসনিমা খন্দকারকে ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের ক্যারিয়ার গাইডেন্স এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের সিনিয়র সর্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. আবু হানিফ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়।
সে সময় শিক্ষকদের বিরোধিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এমন বিতর্কিত নিয়োগ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। পরবর্তীতে উপাচার্যের একান্ত সচিব মো. ছানোয়ার হোসেনের বোন ইয়াসমিন আক্তারকে শেখ হাসিনা হলের হল অ্যাটেনডেন্স এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের সিনিয়র সর্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে সালমাকে কমনরুম অ্যাটেনডেন্স হিসেবে মাস্টার রোলে নিয়োগ দেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মঞ্চের মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘স্বজনপ্রীতি হচ্ছে দুর্নীতির একটা রূপ। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে যাকে নিয়োগ দেয়া হয় সে কখনো যথাযথ ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে না। যদি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়া হয় তখন বিশ্ববিদ্যালয় একজন যোগ্য কর্মকর্তা পেতে পারে।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল হলের সহকারী হল সুপারিন্টেনডেন্ট হিসেবে একজনকে মাস্টার রোলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি কার কি হন সেটা আমাদের দেখার বিষয় না।’
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও তার একান্ত সচিব (ডেপুটি রেজিস্ট্রার) আমজাদ হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।

