চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেএসএস(সন্তু লারমা) সমর্থিত সংগঠন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ’ ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ‘পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ’ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে অন্তত ৮ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের দোকানীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আহতদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম জানা গেছে, তারা হলেন- চবির আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের ২য় বর্ষের ছাত্র রিংকু চাকমা (২০), পালি বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ভুবন চাকমা (২০) ও বাপ্পি চাকমা (২১), নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র কৃতিষ চাকমা (২০) এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র হিমেল চাকমা (২২)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে বুধবার সন্ধ্যার দিকে চবির ২ নম্বর গেটে প্রথম দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দু’পক্ষ। এ সময় ২ নম্বর বাজারের শফি টাওয়ারের ৩টি দোকান ভাঙচুরের করে জেএসএস(সন্তু লারমা)সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কর্মীরা। পরে রাত ৯টার দিকে বিশ্বশান্তি প্যাগোডায় (উপজাতীয় ছাত্রাবাস) দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে চবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিরোধের জের ধরে শিক্ষার্থীদের দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে হাটহাজারী থানার এস আই খায়রুজ্জামান বলেন, ‘আটককৃতদের তিন জনের মধ্যে জোথিষ্ট চাকমা (২২) নামে একজন হাটহাজারী থানার নিয়মিত আসামি। এর আগে ওই এলাকায় পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তার নামে মামলা রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার টিপু সুলতান বলেন,‘সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রিংকু চাকমা নামের একজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীরেই অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ কনুইয়ের একটি আঘাতকে গুলির ক্ষত বলে মনে হয়েছে।’

