বিনোদন ডেস্ক : তানিয়া আহমেদ। দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল, কোরিওগ্রাফার। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত মেহের আফরোজ শাওন নির্মিত ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রটি। চলচ্চিত্রটিতে তার অভিনয় কাঁদিয়েছে দর্শকদের। তার নিজের নির্মাণেও প্রথম চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে অচিরেই। কথা হলো তার সঙ্গে…
হুমায়ূন আহমেদের ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে…
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়ের আগেই বইটি আমি পড়েছি। যতবার পড়েছি চোখের পানি আঁটকে রাখতে পারিনি। মনের মধ্যে গেঁথে ছিলো উপন্যাসটি। সবমিলে একটা কথাই বলবো, স্যারের এ চরিত্রটিতে কাজ করা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
এ চরিত্রটিতে আপনার অভিনয়ের প্রশংসা পাওয়া যাচ্ছে খুব…
ব্যক্তিগতভাবে কৃষ্ণপক্ষ’র এ চরিত্রটি আমার ভালোবাসার, ভালোলাগার চরিত্র। যতদিন শুটিং করেছি সারাক্ষণই চরিত্রটার মধ্যে ছিলাম। চরিত্রটাকে মন থেকে ধারণ করেছি। চেষ্টা করেছি, আমি যা করছি তা যেন অভিনয় মনে না হয়। রেলওয়ে কলোনীতে শুটিংয়ের সময়টাতে আমি কারো সাথেই তেমন কথা বলতাম না। ডুবে ছিলাম। রিলিজ পাওয়ার পর, কাছের মানুষ, দূরের মানুষ অনেকের কাছ থেকেই প্রশংসা পাচ্ছি। এটাই প্রাপ্তি।
‘হুমায়ূনের যোগ্য উত্তরসূরী শাওন’ বলেছিলেন আপনি। নির্মাতা হিসেবে শাওনকে কেমন মনে হয়েছে?
তার নির্মাণের ব্যাপারে আস্থা ছিলো বলেই চলচ্চিত্রটিতে এক বাক্যে রাজি হয়েছি। ডিরেক্টর হিসেবে শাওন খুব ভালো। আমি ওর নির্মাণে প্রথম একঘন্টার নাটকে কাজ করেছি। নামটা এ মুহুর্তে মনে করতে পারছি না বাট আমার মনে হয়েছে নির্মাতা হিসেবে শাওনের নিজস্বতা আছে। ও একটু নিজের মতো করে কাজ করে। ‘কৃষ্ণপক্ষ’ চলচ্চিত্রের শুটিং ছাড়াও যখন স্যারের বিভিন্ন কাজে বা এমনিতেই নুহাশপল্লীতে যেতাম, শাওনকে দেখতাম স্যারের কাজের ব্যাপারে ও কতোটা যত্নবান। শাওন কতোটা হুমায়ূন আহমেদকে ধারণ করে এটা আমরা যারা কাছ থেকে দেখেছি তারা জানি। একটা উদাহরণ দেই, প্রায়ই দেখা যায়, স্যারের যে কোন নাটক বা উপন্যাসের নাম বা ডায়ালগ মনে করতে পারছি না। কিন্তু শাওনকে বললেই সে হুবহু সেটা বলে দিতে পারছে।
এবার একটু আপনার কাজের প্রসঙ্গে আসি। কি করছেন ইদানীং?
অভিনয়, উপস্থাপনা। দু’তিনটি ধারাবাহিকের কাজ করেছি রিসেন্টলি, করছি। নাটকগুলো প্রচারিত হচ্ছে টিভিতে। আর টিভির ‘আমি আর মা’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছি। তবে এখন ব্যস্ত আছি আমার নির্মাণে প্রথম সিনেমার পোষ্ট প্রোডাকশান নিয়ে।
চলচ্চিত্রটির প্রসঙ্গে আসি…
প্রথম দিকে চলচ্চিত্রটির নাম ছিলো ‘গুডমর্ণিং লণ্ডন’। কিন্তু বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে মুক্তি দিতে গিয়ে নামটা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এখন নাম ‘ভালোবাসা এমনই হয়’। বাণিজ্যিক ঘরানার এন্টারটেইনিং চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা করেছি। শুধু প্রেমিক প্রেমিকার গল্পেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আরো অনেক সম্পর্কের গল্প আছে চলচ্চিত্রটিতে। গানগুলো অনেক এনজয় করবে দর্শক। তবে, নির্মাণে বেশি মুন্সীয়ানা দেখাতে চাইনি। প্রথম সিনেমা হিসেবে শিখতে চেয়েছি অনেক বেশি।
চলচ্চিত্রটি সম্প্রতি সেন্সর পেয়েছে। মুক্তির পরিকল্পনা কবে?
মুক্তির বিষয়টি ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আই বলতে পারবে। তবে ধারণা করছি, জুন জুলাইয়ের দিকে মুক্তি পাবে চলচ্চিত্রটি।
দীর্ঘদিন নাটকের সঙ্গে আছেন। কেমন হচ্ছে এখনকার নাটক?
অনেকগুলো চ্যানেল হওয়ার কারণে ভালো নাটকগুলো চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছে। প্রতিক্রিয়াও কম পাওয়া যাচ্ছে আগের তুলনায়। আগে যেমন, একটা দু’টো চ্যানেল ছিলো, একটা ভালো নাটক হলেই অনেক প্রশংসা বা আলোচনা হতো। এখন তেমনটা হচ্ছে না। নির্মাতাদেরও অনেক সংকট আছে। চ্যানেলগুলোও ভালো নাটক চালিয়ে রিটার্ণ পাচ্ছে না। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে নির্মাতাদের ভালো ফিডব্যাকও দিতে পারছে না। এসবের মাঝে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও ভালো নাটক হচ্ছে।
আর অভিনয়?
শুরু করবার আগেই অনেকে স্টার হয়ে যাচ্ছে। অভিনয়ের দিকে মন দিতে পারছে কম। অভিনয়ের দিকে মন দিলে কাজ করবে কখন? তাদেরও নানা ক্রাইসিস আছে। কিন্তু আমরা যেমন, সবসময় অভিনয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে গেছি, এখন তেমন আর হচ্ছে না। নিজের চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তোলার দিকে বেশি মন দেয়া উচিত।
টুটুল আর আপনার সংসার কেমন চলছে?
ভালো চলছে। এই যে টুটুল আমরা সঙ্গেই আছে। আপনাদের দোয়া আমরা ভালো আছি।

