অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ব্যাংকিং খাতে ঋণ ও আমানতের সুদ ব্যবধান (স্প্রেড) ছিল ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। যা ডিসেম্বর মাসেও ছিল একই। সার্বিক ব্যাংকিং খাতে গড় স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে থাকলেও বেসরকারি ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের ওপরে রয়েছে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে স্প্রেড সীমা লঙ্ঘন করেছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬টি। এর মধ্যে ৬টি বিদেশি ও ১৯টি বেসরকারি এবং ১টি সরকারি ব্যাংক। এ মাসে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকের। এরপর রয়েছে বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের।
বিনিয়োগের মন্থরগতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আমানতের পাশাপাশি ঋণের সুদও কমছে। তবে আমানতের সুদহার যে হারে কমছে, সে হারে ঋণের সুদ কমাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের ঋণ ও আমানতের সুদ ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি হতে পারবে না। কিন্তু অনেক ব্যাংকই অতি মুনাফা প্রবণতার কারণে প্রত্যাশিত হারে ঋণের সুদ কমাচ্ছে না। অন্যদিকে, তহবিল ব্যয় কমানোর অজুহাতে তারা আমানতের সুদ কমিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে, সুলভ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা ঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে দেশে কার্যরত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি মেয়াদী আমানতের সুদের হারও এক শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে এনেছে ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংক থেকে আমানতকারীরা এখন সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদ পাবেন। এর আগে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ সুদ দিতো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ব্যাংকিং খাতে গড় ঋণের সুদ দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ। যা ডিসেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে ডিসেম্বরে এ খাতে আমানতের গড় সুদের হার কমে হয়েছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ। যা নভেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এরপরে রয়েছে বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধানের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে বেসরকারি খাতের ডাচ বাংলা ব্যাংক। তাদের এই ব্যবধান ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এই ব্যাংকটিও খুব কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে। তবে ঋণের সুদের হার বেশি। যে কারণে তাদের স্প্রেডও বেশি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ান ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের স্প্রেড ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা আইএফআইসি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ৫ দশমিক ২২ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের ৫ দশমিক ২১ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার ৫ দশমিক ১৮ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৫ শতাংশ।
নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও মেঘনা ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এনএ’র ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, স্টেট ব্যাংক ইন্ডিয়ার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, এইচএসবিসি ব্যাংকের ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ও কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ও উড়ি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, শতাংশ থেকে শতাংশের মধ্যে কম-বেশির তুলনা করতে শতাংশীয় পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। যেমন- ৫ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশ হলে এটি ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমলো বলে বিবেচিত হবে।

