ঢাকাTuesday , 1 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিল্পঋণে কমছে আদায় বাড়ছে খেলাপি

Link Copied!

bankঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে খেলাপি কমানো ও আদায় বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তাগাদা নিয়মিত। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। তবে ঋণের টাকা পরিশোধে কর্ণপাত করছে না শিল্প উদ্যোক্তারা। এর ফলে শিল্পখাতে বিতরণকৃত ঋণের আদায় যেমন কমছে, তেমনি বেড়ে যাচ্ছে খেলাপির পরিমাণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিশেষ বিবেচনায় ঋণ নিয়মিত করা, ডিসেম্বরের অর্থাৎ বছরের শেষ সময়টাতে ব্যাংকগুলোর একটু নরম হয়ে ঋণ নিয়মিত করাসহ বিভিন্ন কারণেই কমে যায় খেলাপি ঋণ। যে কারণে বছরের এ সময়টাতেই খেলাপির হার সবচেয়ে কম থাকে। এসব কারণে ২০১৫‘র ডিসেম্বর শেষে ১ দশমিক ১০ শতাংশ কমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হয়েছে মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যা ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি ২২ লাখ। যা একই বছরের জুনে ছিল ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
এর বেশিরভাগ সুবিধাই ভোগ করেছে দেশের বড় বড় শিল্পগ্রুপ। তারপরও বেড়েছে শিল্প খাতে খেলাপির পরিমাণ। জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত শিল্পখাতে বিতরণ করা ১ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। যা শতাংশের হিসেবে বিতরণকরা ঋণের ১২ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এতে করে এ খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। যা ২০১৪ সালের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ‘আসলে অনেকে ব্যাংক ঋণ নিয়ে তাদের ফ্যাক্টরিটা গুছিয়ে রেখেছে। গ্যাস বা বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না। এরকম প্রায় দু’হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে। যারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফ্যাক্টরির কাজ অনেক এগিয়ে রেখেছে। কিন্তু উৎপাদনে যেতে পারছে না। আর উৎপাদনে না যেতে পারলে তারা ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করবে কী করে।’
শিল্প উদ্যোক্তাদের বড় অনেক ঋণ ব্যাংকগুলো নিয়মিত করেছে, তারপরও বেড়েই চলছে খেলাপির পরিমাণ। এটার কারণ কী- জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, ‘শুধু যে সমস্যাটা গ্যাস-বিদ্যুতের তা নয়। আমরা এত বেশি পেছনে পড়ে রয়েছি যে, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অঙ্গণে অন্যান্যদের সঙ্গে সমান তালে প্রতিযোগিতা করতে পারছি না। আমাদের জন্য সে সুযোগটাও অনেকটা সীমিত। এতে করে আমাদের বেশ ক্ষতির মুখেও পড়তে হচ্ছে।’
আলোচ্য সময়ে কমেছে শিল্প ঋণের আদায়। আদায় কমার কল্যাণেই মূলত বেড়েছে খেলাপির পরিমাণ। এ সময়ে নিয়মিত ঋণের আদায় কমেছে ১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ২১ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে সময়টিতে। আগের বছরের একই সময়ে নিয়মিত ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।
এদিকে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে শিল্পখাতে কমেছে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ। উল্লিখিত সময়ে বিতরণকৃত বড়, মাঝারি ও ছোট শিল্পে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩১ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা।
শিল্পখাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে খেলাপি হয়েছে ৩ হাজার ৯৭৮ কোটি, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৮ কোটি, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৩৯৭ কোটি, বিশেষায়িত ব্যাংকের ২ হাজার ৭০৯ কোটি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘আমাদের এখানে কেউ যদি অপরাধ করে সেটার বিচারটা একটু ধীরগতিতে হয়। যেখানে উন্নত দেশগুলো অনেক এগিয়ে। সেটাতে অপরাধীর সাহস বেড়ে যায়। আর আমাদের ব্যবসায়িদের মানসিক অবস্থাও অনেক উন্নত না। যাদের ঋণ খেলাপি হয়, তারা ঋণ নেয়ার আগে থেকেই এরকম লক্ষ্য স্থির করে রাখে। এর বিচার হতে থাকলে আসলে এটা কমতে থাকবে। আর এখন খেলাপিটা অনেক কমে আসছে। যা হচ্ছে সেটা পুরনো ঋণের জের। এর জন্য ব্যাংকগুলোকে অর্থ-ঋণ আদালতে যাওয়া উচিৎ।’
যারা এরকম লক্ষ্যস্থির করে ঋণ নেয় তাদের সঙ্গে ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাদের যোগসাজস থাকে; যারা একটা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে কাজটিতে সহায়তা করে বলে উল্লেখ করেন অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ। এর জন্য বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে সরকারি ব্যাংক এদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক নিরাপদ বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন একজনকে বেশি ঋণ না দিয়ে, কম কম করে বেশি ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দিচ্ছি। তারা পরামর্শ অনুযায়ী কাজও করছে। যে কারণে এসএমইতে ঋণ বিতরণ বাড়ছে। এর ফলে কিন্তু আদায় আর বিতরণের গ্যাপ কমে আসছে; অর্থাৎ খেলাপি ধীরে ধীরে কমছে।’