বিনোদন প্রতিবেদক : চিত্রনায়ক ফেরদৌসের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবি দৃশ্যগুলো। এ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের হুদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়ে সমর্থ হয়েছিলেন দুই বাংলায় সমান জনপ্রিয় এ নায়ক। প্রায় দেড় যুগের ক্যারিয়ারে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন ভিন্ন এক উচ্চতায়। যার স্বীকৃতি হিসেবে ফেরদৌস তিন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। সম্প্রতি তার বর্তমান ব্যস্ততা, চলচ্চিত্রের অবস্থাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।
কোথায় আছেন, বাসায় না শুটিংয়ে?
‘মেঘকন্যা’ ছবির শুটিংয়ের জন্য এই মুহূর্তে বান্দরবানে আছি। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে ছবির তিনটি গান ও কিছু দৃশ্যধারণ শেষে ঢাকায় ফিরব।
‘মেঘকন্যা’সহ দু একটি ছবিতে আপনার বিপরীতে নতুন প্রজেন্মের নায়িকাদের দেখা যাচ্ছে। এর পেছনের কারণ কী?
‘মেঘকন্যা’ ছবিতে আমার বিপরীতে অভিনয় করছে নিঝুম রুবিনা। এর আগেও ওর সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন ভালো করছে। ওদেরকে উৎসাহ দিতে হবে। তবেই বাংলা চলচ্চিত্র এগিয়ে যাবে।
প্রধান চরিত্রের পাশাপাশি আপনাকে বিশেষ বা অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে, এর কারণ কী?
আমাকে অনেক সময় প্রিয় মানুষদের অনুরোধ কিংবা আবদার রক্ষা করতে হয়। এ কারণেই ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ছবিটিতে আমি একটি মাত্র দৃশ্যে অভিনয় করেছি। অন্যদিকে ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ছবিতেও মৌসুমীর সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য পর্দায় দেখা যাবে আমাকে। ছবিটি মূলত গুলজার ভাইয়ের অনুরোধেই করা।
আগামী শুক্রবার মেহের আফরোজ শাওনের পরিচালনায় ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। চলচ্চিত্রের বাজার যখন তলানিতে এসে ঠেকেছে, তখন হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বণে সাহিত্য নির্ভর একটি ছবি কতটুকু দর্শক টানতে পারবে?
আমার কথা হচ্ছে ভালো ছবি হলে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে আসবেই। তা যতই বাধা-বিপত্তি থাকুক না কেন। তাছাড়া এ ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে কাছ থেকে যতটুকু দেখেছি, তাতে দর্শক মন জয় করবে বলেই আশা করি।
বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
‘মেঘ কন্যা’ ছাড়াও ‘পোস্ট মাস্টার ৭১’, ‘৫২ থেকে ৭১’, ‘শূন্য হৃদয়’, ‘লিডার’, ‘কালের পুতুল’, ‘ভাবীর আদর’সহ বেশ কয়েকটি ছবি হাতে রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ছবির কাজ শেষের পথে। বাকিগুলোর কাজও এবছর শেষ হবে বলেই আশা করছি।
কিছুদিন আগেও কলকাতার ছবি নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেন, অথচ এখন একের পর এক দেশিয় ছবিতে কাজ করছেন। এর পেছনে কোন রহস্য আছে কী?
কোন রহস্য নেই। গত দু’বছর ধরে কলকাতায় কাজ কমিয়ে দিয়েছি। আপাতত দেশিয় ছবিতে মনোনিবেশ করতে চাই। হাতে যে কাজগুলো আছে তা শেষ করে বতর্মান সময়ের দর্শকদের টেস্টটা বুঝতে চাই।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনায়ও নাম লিখিয়েছেন। এ নিয়ে কোন পরিকল্পনা আছে কী?
ছবি প্রয়োজনা নিয়ে আমার বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নুযহাত ফিল্মস নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুলেছি। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইতিমধ্যে ‘এক কাপ চা’ নামের একটি ছবি মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া নির্মাণাধীন রয়েছে ‘পোস্টমাস্টার ৭১’ নামের আরেকটি ছবি। মূলত ব্যবসায়িক ভাবে সফল হতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অনেকে ছবি প্রযোজনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে হলে এই শিল্পের লোকজনকেই এগিয়ে আসতে হবে।
সম্প্রতি জাজসহ বেশ কয়েকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্রে বিশাল বিনিয়োগ করেও, ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিতে পারেনি। সেদিক থেকে নায়ক ফেরদৌস প্রযোজক হিসেবে কতটুকু সফলতার মুখ দেখতে পাবেন?
অনেকেই এক, দেড় কিংবা দু’কোটি টাকা খরচ করে ছবি নির্মাণ করছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এখন কোটি টাকায় সিনেমা বানানো আত্মহত্যার শামিল। বরং মাঝারি ধরণের বিনিয়োগ করে দর্শকদের হলে ফেরাতে হবে, ছবিতে বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে আবারো পুন: বিনিয়োগ করতে হবে। তবেই বাজার বড় হবে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো লাভের মুখ দেখবে।

