অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : কিছুদিন আগেও বাজারে রসুনের দাম ছিল ক্রেতাদের হাতের নাগালে কিন্তু গত কয়েকদিনে নিত্য প্রয়োজনীয় মশলাজাতীয় এ পন্যটির দাম লাগমহীন বেড়ে গেছে। ১১০ টাকা কেজির রসুন একমাসের ব্যবধানে বর্তমানে খুচরা বাজারে ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এদিকে, গত সপ্তাহে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ২ টাকা কমে ২২ টাকা থেকে ২৮ টাকায় বিক্রি হলেও এদিন তা ২৪ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে অন্যান্য পন্যের দাম স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রিতারা।
এদিকে, সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাব মতে, আমদানি করা প্রতিকেজি রসুনের দাম এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায়। যা এক মাস আগে ছিল ১১০ টাকা ১২০ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রসুনের দাম প্রতিকেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা ৯০ টাকা বা ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কিন্তু কী কারণে রসুনের এ দাম বেড়েছে সে সম্পর্কে সংগঠনটি কিছু বলেনি।’
আদা-রসুনের পাইকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাজারে দেশি রসুনের সঙ্কট তাই বেশি দামে চায়না থেকে রসুন কিনতে হয়। নতুন যারা রসুন আমদানি করছে, তারা বেশি দামে কিনছে বলে বেশি দামেই বিক্রি করছে। তবে যেসব ব্যবসায়ীর কাছে আগে থেকেই মজুদ করা রসুন ছিল তারা সুবিধা নিচ্ছে।
শ্যামবাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী বরিশাল ট্রেডাস স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস হাওলাদার জানান, বতমানে রসুন চড়া দামে আমদানি করতে হচ্ছে। যারা বেশি দামে কিনছে তারাতো লোকসান দিয়ে বিক্রি করবে না। তবে যেসব ব্যবসায়ী আগেই রসুন মজুদ করে রেখেছিল তারা মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের মনিটরিং করা উচিত। একই সঙ্গে যাদের কাছে রসুন মজুদ ছিল তারা যেন কিছুটা কম দামে বিক্রি করে। এটি নিশ্চিত করতে পারলেই বাজারে দামের সমন্বয় হবে। এতে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রনে থাকবে রসুনের বাজার।
ওই বাজারের রাজু ট্রেডাসের স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদ বলেন, ‘কিছু দিন ধরে আমদানি করা চায়না রসুনের দাম বাড়তি। তবে আজ (শনিবার) থেকে দেশি কাঁচা রসুন বাজারে আসা শুরু করেছে। আজকে প্রাইকারী বাজারে প্রতিকেজি কাঁচা রসুন ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি করা ও দেশীয় পুরাতন রসুনের দাম বাড়তি বলে জানান তিনি।
এছাড়া, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ২৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ টাকায় পাইকারী বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সয়াবিন তেলের দাম অপরিবর্তিত আছে। বাজারে প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৫৫ টাকায়। আর এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়।
এদিকে, বাজারে সবজির দাম স্বাভাবিক আছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন ২০ টাকা থেকে ২২ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ২৫ টাকায়, মরিচ ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, টমেটো ২৫ টাকা থেকে ২৬ টাকায়, গাজর ১৫ টাকা থেকে ২৫ টাকায় , খিরা ২০ টাকা থেকে ২২ টাকায়, করলা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, ঝিঙা ৩০ টাকা থেকে ৩২ টাকায়, পটল ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, ঢেঁড়স ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকায়, ওস্তা ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, চিচিঙ্গা ৩৫ টাকা থেকে ৩৬ টাকায়, পেঁপে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, দোন্দল ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, শালগম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায়, মূলা ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায়, বটবটি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, কচুর ছড়ি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, লতি ২০ টাকা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতিটি ফুলকপি ১৫ টাকা (ছোট) থেকে ২০ টাকায় (বড়) বিক্রি হচ্ছে। বাঁধা কপিও একই দামে বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। এদিকে, প্রতিকেজি আলু ১৫ টাকা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৩০ টাকায় এবং ছোট লাউ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ছোট কুমড়া ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং বড় কুমড়া ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, যতদিন পন্য আমদানি স্বাভাবিক থাকবে ততদিন দাম হাতের নাগালে থাকবে। এখন কাঁচপন্যের মৌসুম, তাই দাম অনেকটাই হাতের নাগলে বলে জানান তারা।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাপণ্যের ব্যবসায়ী হানিফ জানান, শীতকালীন ফসল ওঠছে তাই মালের দাম অনেক কম। এছাড়া এ সময় কাঁচামালে খুব বেশি পানি দিতে হয় না। তাই পচেও কম। তবে আড়তে অনেক পন্য পঁচতে দেখা যায়। পন্যের দাম কম হওয়ায় বিক্রি ভালো বলে জানান তিনি।
বাজারে ডিমের দাম অপরিবর্তিত আছে। খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারী বাজারে ব্রয়লার মুরগির ১০০ ডিম ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায়।
প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি (সাদা) ১৪০ টাকা, (লাল) ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত আছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিকেজি খাসির মাংসের দাম ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা।
শ্যামবাজার কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এমরান হোসেন জানান, এখন কাঁচামালের মৌসুম। সেকারণে চাহিদার চেয়ে বেশি মালামাল আমদানি হচ্ছে। ফলে দাম ভোক্তাদের হাতের নাগালেই আছে।

