নিজস্ব প্রতিবেদক : সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা এই দুইয়ের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় নিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজিত ‘সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক কনভেনশন’।
শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী কনভেনশনের উদ্বোধন করেন তিন প্রবীণ বিপ্লবী কামাক্ষ্যা রায়চৌধুরী, জসিম উদ্দিন মণ্ডল এবং অধ্যাপক যতীন সরকার।
বিকেল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিন উদ্বোধক। এসময় জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রবীণ বিপ্লবী জসিম উদ্দিন মণ্ডল। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানী এবং কনভেনশন পতাকা উত্তোলন করেন দুই উদ্বোধক কামাক্ষ্যা রায়চৌধুরী ও অধ্যাপক যতীন সরকার।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার পর উদ্বোধনী পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে আসেন উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা। উদীচীর সহ-সভাপতি শংকর সাওজালের পরিকল্পনায় এ আলেখ্যে তুলে ধরা হয় বাংলার আবহমান অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা পর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতম গণহত্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম, খুলনার চুকনগর গণহত্যার ঘটনাকে অসাধারণ ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করেন উদীচীর শিল্পীরা।
আলেখ্যের শেষ পর্যায়ে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসা হয় চুকনগর গণহত্যার সময় লাশের স্তুপ থেকে একটি মেয়েকে উদ্ধার করে তাকে স্ব-ধর্মে বড় করে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এরশাদ আলী ও সেই মেয়ে সুন্দরী বালাকে।
উদ্বোধনী আলেখ্যানুষ্ঠানের পর উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন কামাক্ষ্যা রায়চৌধুরী, জসিম উদ্দিন মণ্ডল, অধ্যাপক যতীন সরকার, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এবং অংশগ্রহণকারী দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম প্রভৃতি দেশের একজন করে প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের হিরন্ময় ঘোষাল, জাপানের নাওমি ওয়াতানাবে, পাকিস্তানের রাহাত সাঈদ, শ্রীলঙ্কার মোহাম্মদ ইকবাল এবং নেপালের অমর রাজগিরি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ পর্বের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উদীচীর সাধারণ সম্পাদক প্রবীর সরদার।
উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানীর বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয় কনভেনশনের উদ্বোধনী পর্ব। এ পর্ব সঞ্চালনা করেন উদীচীর সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম।
এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ পর্বে একক গান নিয়ে মঞ্চে আসেন প্রথিতযশা শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, অনিমা মুক্তি গোমেজ, মাহমুদ সেলিম, হাবিবুল আলম ও বিপ্লব রায়হান।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত গবেষক ও গণসঙ্গীত শিল্পী শুভেন্দু মাইতি ও অংশুমান চৌধুরীও পরিবেশন করেন দুর্দান্ত উপস্থাপনা। দলীয় পরিবেশনা উপস্থাপন করেন ফরহাদ অ্যান্ড ট্রুপ, দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ এবং ত্রিপুরার শিল্পীরা। ছিল বাচিক শিল্পী বেলায়েত হোসেনের আবৃত্তি পরিবেশনা।

