স্পোর্টস ডেস্ক : পেশোয়ার জালমির কর্তারা হয়তো আফসোস করছেন এভাবে, ‘ইস, তামিম যদি আমাদের কথা শুনত তাহলে কোয়েটাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যেতাম। অপেক্ষার প্রহর আর দীর্ঘায়িত হতো না।’ কোয়ালিফাইং ম্যাচগুলো খেলতে তামিমকে নাকি বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিয়েছিল পেশোয়ার। পরিবারকে প্রধান্য দিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। শুক্রবার রোমাঞ্চকর ম্যাচে তামিমহীন পেশোয়ারকে মাত্র ১ রানে হারিয়ে পিএসএলের ফাইনালে উঠেছে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ১৯.৩ ওভারে কোয়েটা অলআউট হয় ১৩৩ রানে। লো স্কোরিং ম্যাচেও তীরে এসে তরী ডুবল পেশোয়ারের। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তাদের ইনিংস থাকে ১৩২ রানে। আর তাতে ফাইনালে ওঠার জন্য অপেক্ষাটা দীর্ঘায়িত হয় পেশোয়ারের। পরবর্তী ম্যাচে অর্থাৎ তৃতীয় কোয়ালিফাইং ম্যাচে জয় পেলেই ফাইনালের টিকিট পাবে তারা। ওই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড ও করাচি কিংসের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ী দল।
তামিম দেশে ফিরে আসায় পেশোয়ারের ওপেনিং জুটিতে বারবার পরিবর্তন আনা হয়। কোয়েটার বিপক্ষেই যেমন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন কামরান আকমল। এর আগে পিএসএলে তিনি খেলেছেন তিন কিংবা চার নাম্বারে। মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে ভালো পার্টনারশিপ গড়তে পারেননি আকমল। দলীয় ২৯ রানের মাথায় বিদায় নেন তিনি (৯)। বলতে না বলতে বিদায় নেন হাফিজও (১৫)। পেশোয়ারের দুই ওপেনারের বিদায় হয় দলীয় ২ রানের ব্যবধানে। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি আগের ম্যাচে জয়ের নায়ক ব্র্যাড হজ।
তবে ড্যারেন স্যামি ও ওয়াহাব রিয়াদ ধাক্কাটা ভালোই দিয়েছিলেন কোয়াটাকে। ব্যক্তিগত ৩৮ রানে স্যামি ও ২২ রানে ওয়াহাব সাজঘরে ফিরলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পেশোয়ারকে। কোয়েটার পক্ষে সমান তিনটি করে উইকেট দখলে মোহাম্মদ নেওয়াজ ও গ্রান্ট ইলিয়ট। আইজাজ চিমা নিয়েছেন দুটি আর আনোয়ার আলীর পকেটে জমা হয় একটি উইকেট।
এর আগে কোয়েটার হয়ে সর্বোচ্চ ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন কেভিন পিটারসেন। ইংল্যান্ড দলে উপেক্ষিত এই ব্যাটসম্যানের ৩৮ বলের ইনিংসটি ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে কুমার সাঙ্কাকারার ব্যাট থেকে। পেশোয়ারের পক্ষে সেরা বোলার ওয়াহাব রিয়াজ। ৩টি উইকেট নেন পাকিস্তানের এই পেসার। শন টেইট নেন ২টি উইকেট। আর একটি করে উইকেট দখলে যায় হাসান আলী, মোহাম্মদ আসগর, শহিদ আফ্রিদি ও ড্যারেন স্যামির দখলে।

