
কথা বলছেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা খাতুন
স্পোর্টস ডেস্ক : গত টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল খেলেছিল স্বাগতিক হিসেবে। তবে এবার বাছাই পর্বের বাধা পেরিয়ে নিজেদের যোগ্যতাই টি২০ বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে জাহানারা-শুকতারারা।
বর্তমানে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অবস্থান নবম। তাই আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করাই লক্ষ্য বাংলাদেশের মেয়েদের। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এমনটাই বললেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলম।
২০১৪ সালে দেশের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে স্বাগতিক হওয়ায় সেবার খেলেছিল সরাসরি। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে তারা বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বাছাইয়ে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ওই বাছাইপর্ব থেকেই বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাহানারা।
আগামী মার্চে ভারতের বসবে টি২০ বিশ্বকাপের আসর। যেখানে অংশ নেবে বাংলাদেশের পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দল। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের জার্সি উন্মোচন করা হয়। সেখানেই নারী দলের অধিনায়ক জাহানার আলম বিশ্বকাপের লক্ষ্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রথমবার আমরা যখন বিশ্বকাপ খেলেছিলাম, তখন আয়োজক হিসেবে খেলেছিলাম। আর এবার আমাদের নিজ যোগ্যতায় বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছি। আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী ভালো খেলার ব্যাপারে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে র্যাংকিংয়ে ৭-৮ উঠে আসা। আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।’

টি২০ বিশ্বকাপের জন্য নতুন জার্সিতে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার পর বাংলাদেশের মেয়েরা সেভাবে আর খেলার সুযোগ পায়নি। তারপরও আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে নীচে থাকায় দলগুলোও বাংলাদেশের সঙ্গে সেভাবে খেলতে চায় না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যেহেতু র্যাঙ্কিংয়ে আটের মধ্যে নেই। এ জন্য আইসিসির আন্ডারে আমরা সেভাবে ম্যাচ পাই না। বিসিবি অনেক চেষ্টা করেছে ম্যাচ আয়োজন করার জন্য। এজন্য আমাদের লক্ষ্য নিজেদের র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করে আইসিসি আন্ডারে ম্যাচ খেলা।’
গত বিশ্বকাপে দলের একজন সদস্য হিসেবেই খেলেছিলেন জাহানারা। তবে এবার অধিনায়ক হিসেবে খেলতে যাচ্ছেন টি২০ বিশ্বকাপে। তাই এবার দারুণ রোমাঞ্চিত তিনি।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী দলকে নেতৃত্ব দেয়া প্রসঙ্গে জাহানারা বলেন, ‘অবশ্যই অনেক ভালো অনুভূতি। আগে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতাম একজন খেলোয়াড় হিসেবে, এবার একজন অধিনায়ক হিসেবে করতে যাচ্ছি। তারপরও আমি বলবো আলাদা করে আমার অতিরিক্ত কোন চাপ নেই। আমাদের দলে বেশিরভাগ সিনিয়র খেলোয়াড়। যারা একেকজন অধিনায়ক। সঠিক সময় সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে হয়; এর জন্যই আমি। আমার দলের সবাই অনেক হেল্পফুল, সবাই খুব সাহায্য করে আসছে, আশা করি ভবিষ্যতেও করবে।’
গত ৫ ডিসেম্বর বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর আর কোনো ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশ্বকাপের আগেও তেমন কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই। বিকেএসপিতে অনুশীলন ক্যাম্প চলার সময় কয়েকটি ম্যাচ খেলবে তারা অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৭ দলগুলির সঙ্গে। এরপর ভারতে গিয়ে দুটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। তবে ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতিকে খুব বড় সমস্যা বলে মানছেন না জাহানারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক বলেন, ‘ম্যাচ খেললে উন্নতি হওয়ার অনেক সুযোগ থাকে এটা সত্য। তবে যা হয়নি, এটাকে আমি ঘাটতি বলবো না। নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের আগে আইসিসির অনুশীলন ম্যাচগুলো খেলে যতটুকু ঘাটতি আছে আশা করি পূরণ করে নিতে পারবো। বিশ্বকাপে গিয়ে তো আমরা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবই। আশা করি সেটাই যথেষ্ট হবে। আমরা চেষ্টা করব বিশ্বকাপে ভালো ক্রিকেট খেলে দেশের জন্য কিছু করতে।’

