বিনোদন প্রতিবেদক : রুক্ষ প্রকৃতিতে নব প্রাণের সঞ্চার করতে বছর ঘুরে আবারো এসেছে বসন্ত। তাই প্রতি বছরের মত এবারও ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ শীর্ষক স্লোগান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণের আয়োজন করেছিলো ‘জাতীয় বসন্ত বরণ উদযাপন পরিষদ’।
দীর্ঘ বাইশ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতায় বসে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণের সবচেয়ে বড় এই আয়োজন। তাই তো ভোরের কুঁয়াশার চাদর ভেদ করেই নগরবাসী জড়ো হতে শুরু করে উৎসব স্থলে।
নারী পুরুষ থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধ সকলেই বাসন্তী রঙে নিজেকে মেতে ধরার এই প্রয়াসে যুক্ত হয়। বাদ যায়নি শিশুরাও। শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনের চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এতে অংশ নেন।
উৎসবের সূচনা হয় সকাল ৭টায় রাগ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। একে একে বকুল তলার মঞ্চে পরিবেশিত হয় একক ও দলীয় নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি; নজরুল ও রবীন্দ্র সঙ্গীত; লোক ও বাউল গানের পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে শেষ দিকে ছিলো বসন্ত কথন পর্ব। এতে আয়োজক পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক উৎসব মানেই বাঙ্গালীর উৎসব। আর বাঙ্গালীর উৎসব মানেই তাতে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ। সে হিসেবে বসন্ত উৎসব আমাদের প্রাণের উৎসব।’
বসন্ত কথন পর্ব শেষে উৎসবে আগত সকলে হাতে প্রীতি বন্ধনী পরিয়ে দেয়া হয়। তার পরপরই চারুকলা প্রাঙ্গন থেকে একটি র্যালী বের করা হয়। যা ক্যাম্পাস ঘুরে উৎসব স্থলে এসে শেষ হয়।
চারুকলার বকুলতলার পাশাপাশি এবার একই সঙ্গে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চ, পুরনা ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক ও উত্তরায়। চারটি অনুষ্ঠানেই পৃষ্ঠপোষক মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন।

