স্পোর্টস ডেস্ক : আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেরে সেমিফাইনালে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ইতিহাস গড়ে ফেলেছে জুনিয়র টাইগাররা। তাই বলে সেমিফাইনালে খেলার আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন না মেহেদি হাসান মিরাজ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হওয়ার আগে এমনটাই জানালেন বাংলাদেশ দলপতি।
আফতাব-আশরাফুল-মুশফিকরা যা পারেননি সেটি করে দেখিয়েছে মিরাজের দল। বৃহস্পতবারের ম্যাচটি জিতলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশের তরুণরা। ক্রিকেট ইতহাসে এমন মাইলফলকে পৌঁছেও আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করছেন জুনিয়র টাইগাররা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের মতে রোমাঞ্চ-চাপ-আনন্দ এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারণ অল্পতেই খুশি কিংবা রোমাঞ্চিত হলে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করছেন তিনি।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার যুব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। বুধবার সকাল থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চলে টাইগার জুনিয়রদের অনুশীলন পর্ব। এরপর সেমিফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলছে বাংলাদেশের তরুণরা। তাই রোমাঞ্চ, চাপ এগুলো তো থাকবেই। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘
এগুলোর কোনোটাই আসলে বেশি না। কারণ আমরা যদি এখানে বেশি খুশি হয়ে যাই, তাহলে এখানেই (সেমিফাইনাল) শেষ করতে হবে। আমরা কিন্তু খুশি নই। আমাদের লক্ষ্য একটি একটি করে ম্যাচ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই কোচিং স্টাফরা বলে আসছেন, আমরা প্রতিদিন একটা করে ম্যাচ খেলব আর একটি করে জিতব। সবাই দেখছে এখন আমরা সেমিফাইনালে। কিন্তু আমরা কেউই ভাবছি না, আমরা সেমিফাইনাল খেলছি। এসব আমাদের মাথার ভেতর কাজ করছে না। আমার চিন্তা কালকে (বৃহস্পতিবার) একটা ম্যাচ হবে। তবে এই ম্যাচটা আমাদের জিততে হবে। তারপরও সামনে যা হবে; সেখানে কোনো সমস্যা দেখছি না!’
ঘরের মাঠে হচ্ছে যুব বিশ্বকাপের আসর। তার ওপর প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের সেমিতে খেলছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তাই দর্শকদের চাপ তো থাকবেই। সেই সঙ্গে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফাইনালে যাওয়ার বাড়তি চাপ। তবে এসব চাপ সবাই নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানান মেহেদি হাসান।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যদি রোমাঞ্চিত এবং আবেগী হয়ে যাই তাহলে কিন্তু ম্যাচটি জিততে পারব না। ক্রিকেট খেলা এমন একটি খেলা এখানে প্রসেসে থাকতে হবে। আপনি যদি প্রসেস থেকে বের হয়ে যান তাহলে সফল হতে পারবেন না। রোমাঞ্চিত যখন নিজে থেকে অনুভব করা শুরু করবেন তখন চাপ কাজ করবে। তখন ন্যাচারাল খেলা খেলতে পারবেন না। ’
সেমিফাইনালের আগে এসব বিষয়গুলোকে কেনোভাবেই মাথায় আনতে চান দলনায়ক মিরাজ। তাতে করে দলের ওপর বাড়তি চাপ এসে যাবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মিরাজ বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে সেমিফাইনাল খেলা আমরা মাথায় নিচ্ছি না। আমার কাছে একটি জিনিসই মনে হচ্ছে কালকে একটি ম্যাচ ওটা জিততে হবে। ওটা কিভাবে জিততে হবে, আমরা যে কাজটা ভালোভাবে করতে পারি, যেভাবে অনুশীলন করেছি ওটাই যেন মাঠে প্রয়োগ করব। তাহলে আমরা ম্যাচটা জিততে পারব। সেমিফাইনাল-দর্শক-চাপ এগুলো আমাদের মাথায় কাজ করছে না। একটাই চিন্তা কালকের (বৃহস্পতিবার) ম্যাচে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
যুব বিশ্বকাপে জুনিয়র টাইগারদের সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। লক্ষ্য এবার ফাইনালে ওঠার। পরিবার কিংবা দর্শকদের থেকে কতটুকু চাপ অনুভব করছেন এমন প্রশ্নে মিরাজ বলেন, ‘যখন আমি ক্রিকেট মাঠে নামি। তখন আসলে আমার পরিবার, দর্শকদের কথাও চিন্তা করি না। বাইরের কোনো চিন্তা মাথায় ঢুকে না। তখন একটি মাত্র চিন্তা থাকে, যেই বলটা আসছে সেটা কিভাবে ভালো খেলব। কিভাবে রান করব। কিভাবে উইকেট নেব। কিভাবে দলের জয়ে অবদান রাখব।’
সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সহজ প্রতিপক্ষ পেয়ে হয়তো ফাইনাল নিয়ে ভাবা শুরু করেছে জুনিয়র টাইগাররা। এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা ফাইনাল নিয়ে ভাবছি না। আমাদের পুরো ফোকাস কালকের ম্যাচের দিকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের বোলার এবং ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো খেলতে পারে সেক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া নিশ্চিত হবে।’
বাংলাদেশ দল আগে ব্যাটিং করলে লক্ষ্য থাকবে ২৫০ রানের। এই রান করলে দল জয় পাবে বলে বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আগে ব্যাটিং করলে আমাদের লক্ষ্য ২৫০ রান। আমাদের দলে বেশ ভালো মানের বোলার আছে। আমার মনে হয় বোলারদের জন্য ২৫০ রান ভালো স্কোর।’

