বিনোদন প্রতিবেদক : ‘অমর একুশের বইমেলা’-য় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’-র বিশেষ মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’-র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সহযোগিতায় সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি।
সার্ধশত রবীন্দ্রবর্ষে রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি-স্মারক প্রযোজনা হিসেবে এবং রবীন্দ্রনাট্য নির্মাণে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে ২০১১ সারে ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি মঞ্চে আনে স্বপ্নদল। ১৮৯২ সালে মাত্র একত্রিশ বছর বয়সে মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা উপাখ্যান অবলম্বনে কিছু রূপান্তরসহ আধুনিক সময়ে মানবের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবিরূপে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন কাব্যনাট্য ‘চিত্রাঙ্গদা’।
নাটকের কাহিনীতে দেখা যায়, মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন। অর্জুন এবারে যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে- অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? অতঃপর চিত্রাঙ্গদার আত্মদ্বন্দ্ব আর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এ সত্য উপলব্ধি করা যায় যে- বাহ্যিক অবয়বের চেয়ে নারী-পুরষের চারিত্রশক্তি অনেক বেশি মূল্যবান এবং এতেই প্রকৃতপক্ষে আত্মার স্থায়ী পরিচয়। এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনির আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক টানাপোড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়!
‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনার কুশীলবরা হলেন- সোনালী, মিতা, মোস্তাফিজ, শ্যামল, শিশির, সামাদ, জেবু, রিমু, আলো, নাবলু, তানভীর, শুভ, অমর, তানিয়া, আলী, জুয়েনা, বিপুল, সাইদ, তীর্থ প্রমুখ।

