ঢাকাTuesday , 9 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিপিসির আয় থেকে গ্রিন ফান্ডের প্রস্তাব

Link Copied!

গভর্নর ড. আতিউর রহমান

গভর্নর ড. আতিউর রহমান

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তেলের দাম না কমানোয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) যে আয় বাড়ছে, সেই আয় থেকে নবায়ণযোগ্য জ্বালানীকে উৎসাহিত করতে একটি গ্রিন ফান্ড করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। একই সঙ্গে যেসব শিল্পকারখানায় নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হবে, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘গ্রিন ব্যাংকিং ফর এনার্জি সাসটেইনেবল ইকোনমি’ প্রকল্প উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আতিউর রহমান বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশে চালু হয়েছে গ্রিন ব্যাংকিং। ইতোমধ্যে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ নামে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিভাগও রয়েছে। বিভাগটির মাধ্যমে ৫০টির মতো সবুজ প্রোডাক্টে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ঋণসুবিধা দেয়া হচ্ছে। গ্রিন প্রোডাক্ট তৈরিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতেও অর্থায়ন সুবিধা দেয়া হবে।’

তিনি জানান, ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে একটি ২০ কিলোওয়াট সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। একই সৌর শক্তি, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, বর্জ্য শোধনাগারের (ইটিপি) প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আতিউর রহমান বলেন, গ্রিন ব্যাংকিং প্রকল্পের আওতায় দেশের যেসব শিল্পকারখানায় সৌরশক্তি কিংবা বায়োগ্যাসের মতো নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করা হবে, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে। আর এ প্রকল্পে সহায়তা করবে জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা। গবর্নর বলেন, গ্রিন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যাংকগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না। এ রকম একটা মেকানিজমে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

গভর্নর আরো জানান, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে-এমন খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে রেটিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকে বিবেচনায় নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে ৬০০ কোটি টাকার আলাদা দুটি তহবিল দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপনে ৪০০ কোটি টাকার এডিবির একটি তহবিল রয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস ও বর্জ্য পরিশোধন প্রকল্পের বিনিয়োগের লক্ষ্যে রিজার্ভ থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখা হয়েছে। এ তহবিল থেকে অত্যন্ত স্বল্প সুদে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে অর্থের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে। দেশে কার্যরত প্রচলিত ধারায় যে কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনঃঅর্থায়নে স্কিমের আওতায় এসব তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে পারে। যদিও সৌর শক্তির আওতায় সমন্বিত গরু পালন ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে এজেন্টের মাধ্যমে ঋণ দেয়া হলে ১১ শতাংশ সুদ নেয়া হয়।

সেমিনারে কো-চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করেন সাসটেইনেবল এ্যান্ড রিনিউবেল এনার্জি ডেভলপমেন্ট অথরিটির (এসআরইডিএ) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার। আলোচনায় অংশ নেন জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ, বিআইবিএম এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।