অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার গত ৫ বছরে বেড়েছে আড়াই গুণ। তবে কোনো অর্থবছরেই বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে সক্ষমতার ঘাটতিই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। একই সঙ্গে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে এডিপি বাস্তবায়নের প্রথাগত ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সোমবার শেরে বাংলানগরের এনইসি কার্যালয়ে ইআরডি আয়োজিত প্রকল্প বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনতে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে অবকাঠামোগত ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন সংক্রান্ত্র এক বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। সেখানে এ বিষয়গুলোসহ এডিপি বাস্তবায়নের ঘাটতি হিসেবে ৯ কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নে গতি আনতে এ বিষয়গুলো দূর করার সুপারিশও করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও ইআরডি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিপি বরাদ্দ ও ব্যবহারের হার আগের চেয়ে বাড়লেও তা ৮০-৮৫ শতাংশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নে এর হার কিছুটা বাড়লেও তা ৯০ থেকে ৯৩ শতাংশের বেশি হয় না। এর মূল কারণ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সক্ষমতার ঘাটতি।
এতে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিদ্যমান পদ্ধতি অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদনের পরে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শুরু হয়। এ কারণে ডিপিপি অনুমোদনের আগে এসব কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যয় নির্বাহের কোনো ব্যবস্থা বর্তমান পদ্ধতিতে নেই। যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো শুরুতেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ও পদ্ধতি প্রবর্তন করা প্রয়োজন।
এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত পরিবর্তনে কিছু প্রস্তাবও রাখা হয়েছে প্রতিবেদনে। এগুলো হলো: প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ, জনবল নিয়োগ, বিনিয়োগ প্রকল্পের সমীক্ষা, পরামর্শক নিয়োগ, পণ্য বা সেবা ক্রয়ের জন্য দরপত্রের দলিল প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় নির্বাহের জন্য ডিপিপি অনুমোদনের আগেই সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ করা। এ বরাদ্দ ও ব্যয়িত অর্থ মূল প্রকল্পের মোট ব্যয়ের অংশ হিসেবে প্রতিফলিত হবে।
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যা পরবর্তীতে অনুমোদিত বৈদেশিক সাহায্যের বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করা যেতে পারে। এতে পাইপ লাইনে আটকে থাকা বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করা সম্ভব হবে। এছাড়া ভূমি অধিগ্রহণের কাজে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদনের আগে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পাদনের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ রাখতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- বিদ্যমান আইন, বিধি, আদেশ বা নির্দেশনার পরিপন্থি বা শিথিলযোগ্য কোনো বিষয় না থাকলে পণ্য বা সেবা ক্রয়ে কমার্শিয়াল চুক্তির ওপর সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগগুলোর অনুমোদন গ্রহণ করার রীতি বা বাধ্যবাধকতা রহিত করা যেতে পারে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের অনুকূলে এডিবি বরাদ্দ তুলনায় সংশোধিত এডিপিতে ১০ শতাংশের বেশি বরাদ্দ কমাতে গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অনুমোদন নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ বাজেট অনুমোদন, বরাদ্দ, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতি ও পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। ইতিমধ্যে অর্থবিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নীতি ও পদ্ধতির একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র অর্থ বিভাগে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ফরিদা নাসরিন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাঠামোগত এবং পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পর্যালোচনা করে বেশ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করছে ইআরডি। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে আগামীতে এডিপি অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে।

