ঢাকাTuesday , 9 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাবির মর্জির ওপর ঝুলছে ৪৯৬ ডেন্টাল শিক্ষার্থীর ভাগ্য

Link Copied!

dentelনিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের ৪৯৬ জন শিক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে। তবে সে কাউন্সিল কবে হবে সে বিষয়ে কোনো দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পেশাগত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন রেজিস্ট্রেশনের অনুমতির জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের।

২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয় ১৪০। আগেরবারের তুলনায় ২০ নম্বর বাড়ানোর ফলে মারাত্মক ফলাফল বিপর্যয় ঘটে। বিপর্যয় সামলাতে সেসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডেন্টাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে ১০ নম্বর কমিয়ে ১৩০ ঠিক করে দেয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলো শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বিপরীতে সে সময় কোনো কিছু না বললেও ভর্তি শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে আপত্তি তোলে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

গত প্রায় এক বছরেও ঘোচেনি সেই অচলাবস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মেনে ভর্তি এবং নিয়মিত শ্রেণিকার্যক্রম সম্পূর্ণ করার পর এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার কথা। কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে এখন রেজিস্ট্রেশনের জন্য ধরনা দিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের।

একই নির্দেশনা অনুযায়ি রাজধানীর বাইরের ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন শেষ হয়ে গেছে। এখনো ঢাকার এ শিক্ষার্থীরা অনুমতিই পায়নি। সঙ্গত কারণেই শিক্ষার্থীদের মনে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে। গত বছর শ্রেণি কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশ নেয়। চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে তাদের প্রথম পেশাগত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি না পাওয়ায় হতাশা জেঁকে বসছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটগুলোর শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ি রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। একই নির্দেশনা মেনে আমরাও ভর্তি হয়েছি কিন্তু এখনো আমাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। দিনে দিনে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিতে পারছি না।’

আরেক শিক্ষার্থীরা বলে, এখন যদি আমরা রেজিস্ট্রেশন করতে না পারি তাহলে সারা জীবন ইন্টারমেডিয়েট পাসই থাকতে হবে। অন্য কোথাও ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়ম মেনেই ভর্তি হয়েছি। আমরা কোনো অন্যায় আবদার করছি না। তাহলে আমাদেরকে রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দিতে সমস্যা কোথায়?

সে বলে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যেকার সমস্যায় আমরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবো?’

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু করা সম্ভব না। বিষয়টি একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করতে হবে।’

চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে পরীক্ষা, কবে আপনারা একাডেমিক কাউন্সিলে বসবেন? এমন প্রশ্নে অধ্যাপক আরেফিন বলেন, ‘এটা এখন বলা যাচ্ছে না আমরা কবে বসবো। আগে তো রেজিস্ট্রেশন করতে হবে পরে পরীক্ষা।’

বিষয়টি মানবিক ও স্পর্শকাতর স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দেখি আমরা আলোচনায় বসে, কী করা যায়।’

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক্রমেই মেডিকেল ও ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার পাস নম্বর ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সে মতে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। হঠাৎ করে পাস নম্বর বাড়ানোর কারণে ফলাফলে বিরাট বিপর্যয় ঘটে। ফল বিপর্যয়ের কারণে খালি থাকে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের অধিকাংশ আসন।

উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জারি করা প্রজ্ঞাপনে শুধু ডেন্টাল কলেজের জন্য পাস নম্বর ১৪০ থেকে কমিয়ে ১৩০ নির্ধারণ করে। বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোর চাপে ঢাবির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্তে নেয় বলে জানা যায়।

মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভর্তির সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আপত্তি তোলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিএমডিসি কয়েক দফা বৈঠক করে উপাচার্যকে অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি।

সর্বশেষ গত রেবাবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি চেয়ে ঢাবি উপাচার্য বরাবর আবেদন করে।