অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.১৯ শতাংশ; যা বিগত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুয়ায়ী, চলতি ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ৫০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে ঋণের প্রবাহ বেড়েছে ১৪.১৯ শতাংশ।
অথচ নভেম্বরেও তা ছিল ১৩.৭২ শতাংশ। বেসরকারি বিনিয়োগে গতি না থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল ডিসেম্বর শেষে তা ১৩.৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পার। এরই প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থবছরের শুরুতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা কর হলেও ছয় মাস পরে তা ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত প্রাক্কলন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণ প্রবাহে চাঙ্গাভাব আনতে নীতি সুদহারও কমিয়ে আনা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত গত ডিসেম্বরেরই তিন বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেখা গেল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ১৪.৮০ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি থাকলেও এক মাস পরে তা ১৪ শতাংশে নেমে আসে। এরপর থেকে এবারই প্রথমবারের মতো বেসরকারি ঋণের প্রবাহ ১৪ শতাংশের ঘর ছাড়িয়ে গেল।
বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের গতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘এখন ঋণ প্রবাহ বাড়ছে। আমরাও চাই এটা ১৫ শতাংশ হোক। মুদ্রানীতি ঘোষণার পর অনেকেই ঋণ প্রবাহের প্রাক্কালনকে সমর্থন করেননি। কিন্তু বাজারে চাহিদা না থাকলে নিজে থেকেই বাড়িয়ে রাখা যায় না। এতে অন্য সমস্যা তৈরি হয়।’
প্রবৃদ্ধির ধারা ফিরে আসায় ঋণ প্রবাহের প্রাক্কালন পুনর্বিবেচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারির হিসাবটা আসুক। এ ধারা অব্যাহত থাকলে পুনর্বিবেচনার বিষয়ে আমরা আলোচনা করব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’
জানুয়ারিতেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকলে মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নতুন করে দেয়া পারে বলে জানা যায়।

