অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চলতি বছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারিখাতে (সিএমএসএমই) ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক নির্মল চন্দ্র ভক্ত এ কথা জানান।
তিনি জানান, চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। এককভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বনির্ধারিত লক্ষ্যের ভিত্তিতে এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গত বছর ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে সিএসএমইখাতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ হিসেবে আলোচ্য বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে।
আদায়ের হার সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদায়ের তথ্য এখনো প্রস্তুত হয়নি। তবে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ খাতে ঋণ আদায়ের হার ৭০ শতাংশের বেশি।’
সিএসএমইখাতে নন পারফর্মি লোন (এনপিএল) কত জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে যতদূর জানি এটা নিম্নমুখি। সবচেয়ে বড় বিষয় হল নারীদের ক্ষেত্রে এটা মাত্র ২ শতাংশ।’
এসএমইখাতে ঋণের বিপরীতে সুদ হার বেঁধে দেয়া প্রসঙ্গে নির্মল চন্দ্র বলেন, ‘দাতাদের কারণে এ খাতে কৃষির মত ক্যাপ (সীমা) বেঁধে দেয়া যাচ্ছে না। এমনটি করলে অনেক প্রকল্পে সহায়তা আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’
ব্যাংকগুলো কর্তৃক উচ্চ হারে সুদ নেয়া প্রসঙ্গে এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টর মহাব্যবস্থাপক স্বপন কুমার রায় জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বারবার যৌক্তিক হারে সুদ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি সার্কুলারের মাধ্যমে আমরা অনেকটা পরোক্ষভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছি। এর ফলে আগে সুদ বেশি নেয়া হলেও এখন আস্তে আস্তে কমে আসছে। আশা করি ২০১৭ সালের মধ্যে এটা সিঙ্গেল ডিজিটে চলে আসবে।
তিনি জানান, গত বছরের শুরুতে রাজনৈতিক কারণে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে।
চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা গত বছরের বিতরণের তুলনায় কম কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার বেশি হলেও তা অপ্রত্যাশিত। তাই গত বছরের বিতরণের ভিত্তিতে না করে লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে করা হয়েছে।
নির্মল চন্দ্র আরও জানান, আগে শুধু ক্ষুদ্র ও মাঝারিখাতে ঋণ বিতরণ করা হলেও এখন কুটির ও মাইক্রোখাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই একে এসএমই না বলে সিএমএসএমই নামে ডাকা হচ্ছে। অচিরেই এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নামও পরিবর্তন করা হতে পারে।

