নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘পিইসি (প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা) শিশুদের উপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার। ১২-১৪টা বই আর এত পড়াশুনা; এটা অমানবিক।’ পিইসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত অভিভাবকদের প্রতিনিধি শারাফাত হোসেন বলছিলেন এভাবেই।
শুক্রবার সকালে উত্তরা হাই স্কুলের সামনে এবং সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হাউস বিল্ডিংস্থ প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে এলাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।
শারাফাত হোসেন বলেন, ‘পড়াশুনার চাপে বাচ্চারা রাত ১২টার আগে পড়ার টেবিল থেকে উঠতে পারে না। তাকে যদি ১২টার পরেও পড়তে হয়। তাহলে, সে খাবে কখন, ঘুমাবে কখন? আবার সকাল থেকে স্কুল। এতে করে বাচ্চাদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।’
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবসাখানা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্কুলের চাপ, কোচিংয়ের চাপ, তারপর আবার প্রাইভেট। সবমিলিয়ে এগুলো শিশুদের উপর চূড়ান্ত নির্যাতনের শামিল। সরকার এ পরীক্ষা চালু করার ফলে স্কুলগুলো হয়ে গেছে সব ব্যবসাখানা। আজ এই মডেল টেস্ট, কালকে এই টিউটোরিয়াল, পরশু ওই পরীক্ষা। বাচ্চাদের পড়ার সুযোগ না দিয়ে শুধু পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এখন সরকার যদি পিইসি পরীক্ষা বন্ধ না করে তাহলে এই অরাজকতা থামানো যাবে না।’
পরীক্ষা বাতিল না হলে বড় আন্দোলনের কথা জানিয়েছেন শারাফাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘জানুয়ারির ২৮, ২৯, ৩০ তারিখে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। আজ আন্দোলনের চতুর্থ দিন। আমাদের সাথে অভিভাবক ফোরাম যোগ দিয়েছে। জাতিও মানবাধিকার সংস্থা আমাদের সমর্থন জানিয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি আমরা সারা ঢাকা শহরের অভিভাবকরা প্রেসক্লাবে গিয়ে প্রেস কনফারেন্স করব, মানববন্ধন করব। তারপরও বাতিল না হলে আমরা আর বড় ধরনের আন্দোলনের কথা ভাববো। কারণ আমাদের বাচ্চাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।’

