অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : কয়েকদিন আগেও রাজধানীতে আমদানি করা প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হতো ১৪০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকায়। শুক্রবার প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এদিকে মিল মালিকদের ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর বাজারে প্রতিকেজি সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা কমলো। অপরদিকে বাজারে শীতকালীন সবজির দাম স্বাভাবিক আছে। রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এমনটিই জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাব মতে, আমদানি করা প্রতিকেজি রসুনের দাম এক সপ্তাহর ব্যবধানে বেড়েছে ১০ টাকা। সংস্থাটির হিসাবনুযায়ী শুক্রবার আমদানি করা প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ১৪৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা। কিন্তু কি কারণে রসুনের দাম বেড়েছে সে সম্পর্কে সংগঠনটি কোনো কিছু জানায়নি।
আদা-রসুনের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বাজারে দেশি রসুনের সঙ্কট অপরদিকে চায়না থেকে রসুন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর এ কারণে দেশে রসুনের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা। রসুনের দাম এর চেয়ে বেশি বাড়বে না। কারণ কিছুদিনের মধ্যে দেশি রসুন উঠা শুরু করবে।
শ্যামবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী রুনা বাণিজ্যালয়ের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, একদিকে বেশির ভাগ পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে দেশি রসুন রিজার্ভ নেই, সঙ্কট অপরদিকে চায়না থেকে বেশি দামে রসুন কিনতে হচ্ছে। আর এ কারণে দেশে রসুনের দাম বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন আগেও চায়না থেকে ১৩২ টাকা দরে রসুন কিনেছি। বর্তমানে চায়না রসুন ১৫০ টাকা কেনা পড়ে। তাই এখন আমদানি কমেছে। যারা আগে কিনেছে তারাই শুক্রবার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি রসুন বিক্রি করছে ১৪৫ টাকায়।’ তবে দেশি নতুন রসুন ওঠা শুরু করলে দাম কমবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাজারে দেশি প্রতিকেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৪৫ টাকা। প্রতিকেজি আদা ৭০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা থেকে ৪৫৫ টাকায়। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকা থেকে ৯৫ টাকায়।
এদিকে বাজারে শীতকালীন সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতিকেজি বেগুন ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ২৫ টাকায়, মরিচ ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, টমেটো ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, গাজর ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায় , খিরাই ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায়, করলা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, ঝিঙা ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, পটল ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, ঢেঁড়স ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায়, ওস্তা ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, চিচিঙ্গা ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকায়, পেঁপে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, দোন্দল ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায়, শালগম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকায়, মূলা ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায়, বটবটি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, কচুর ছড়ি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, লতি ২০ টাকা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতিটি ফুল কপি ২০ টাকা (ছোট) থেকে ২৫ টাকায় (বড়) বিক্রি হচ্ছে। পাতা কপিও একই দামে বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। এদিকে প্রতিকেজি আলু ১৫ টাকা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৩০ টাকায় এবং ছোট লাউ ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি ছোট কুমড়া ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা এবং বড় কুমড়া ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, আড়তে শীতকালিন অনেক পণ্য পচে যাচ্ছে। চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে। তাই কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম অনেকটা কম।
সেগুনাবাগিচা বাজারের কাঁচাপণ্যের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জনি জানান, পাইকারি বাজারের উপর খুচরা ব্যবসায়ীরা নির্ভর করে। আমরা প্রতিদিন ভোরে কাঁচাপণ্য আড়ৎ থেকে বাজারে এনে সারাদিন বিক্রি করি। পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম কম থাকে, তখন ক্রেতাদের ভীড় বেশি থাকে। বিক্রিও ভালো হয় বলে জানান তিনি।
এদিকে বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ২৫ টাকা থেকে ২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির ডিম ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি হাঁসের ডিম ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ব্রয়লার মুরগির একশ ডিম ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকায় (একশ)।
প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি (সাদা) ১৩৫ টাকা, (লাল) ১৪৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৩৮০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি খাসির মাংস ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়তের ব্যবসায়ী নেতা নুরু হাজী জানান, বাজারে সকালে এলে দেখবেন অনেক কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে। আর এ কারণেই কাঁচাপণ্যের দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

