অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ২০২১ সালের মধ্যে পোশাকশিল্পে ৫০ বিলিয়ন ডলার অর্জনের বড় বাধা এনার্জি সাপ্লাই ও অবকাঠামো। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতির কারণে অনেক কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরাও পিছিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে দ্যা ডেইলি স্টার ও বিজিএমইএ আয়োজিত ‘টার্গেট ইউএস ৫০ বিলিয়ন : উই নিড ইউর সাপোর্ট টু রিচড ইট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এমন কথা জানান।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট বলেন, ‘অনেক বাধা-বিপত্তির পরও বাংলাদেশ পোশাকশিল্পে বিশ্ববাজার ধরে রেখেছে। তবে পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিশ্বের স্টান্ডার্ট বজায় রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে পোশাক শিল্পে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জন করতে হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মুজরি, কাজের পরিবেশ, অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত এনার্জি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে এ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার বিষয় আলোচনা সাপেক্ষ।’
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হাসান বলেন, ‘বহু বাধা-বিপত্তির পরও পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ এখনও ১ নম্বর স্থানে আছে। তবে এ শিল্পে বাংলাদেশ ঝুঁকিতে আছে ভারত ও ভিয়েতনামকে নিয়ে। এ কারণে পোশাকশিল্পের যে সংস্কার দরকার এখনই এর অগ্রগতি করতে না পারলে ঝুঁকি বড় হয়ে দাঁড়াবে।’
তিনি বলেন, ‘উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সবচেয়ে বড় সমস্য জ্বালানি ও জমি। এ দুয়ের সঙ্কটে শিল্পদ্যোক্তারা বিনিয়োগ বিমুখ হয়ে পড়ছেন। গ্যাস সঙ্কটের কারণে বড় উদ্যোক্তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হচ্ছে না। এর সঙ্গে আছে কারখানার জন্য জমির সঙ্কট। তাই সরকারকে জ্বালানি ও জমির সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করতে হবে।’
সভায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে পোশাক রপ্তানি করে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের জন্য মালিকপক্ষ যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং। এ লক্ষ্যে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কী পরিমাণ গ্যাস, তেল ও দক্ষ জনশক্তি দরকার, তার পরিমাণ সরকারকে জানাতে হবে। তাহলে সরকার সে অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।’
বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের মধ্যে ৫ শতাংশ বস্ত্র ও পোশাকখাতে ব্যবহার করা হয়। যদিও এ দুটিখাত কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জিডিপিতে বিশাল অবদান রাখছে। আমরা জানি, দেশে গ্যাসের স্বল্পতা আছে। একারণে শিল্পে প্রবৃদ্ধি কারণে এ সঙ্কটের সমাধান করা উচিৎ। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির জন্য পোশাকশিল্পের গ্যাস সরবরাহ জরুরি। এ কারণে এ শিল্পে এনার্জি সাপ্লাইয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া উচিৎ।’
পোশাকশিল্পে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নারী শ্রমিকদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে জানিয়ে শ্রমিকনেতা নাজমা আক্তার বলেন, ‘বাংলাদেশের গার্মেন্টেস শিল্পে ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে নারী শ্রমিক ৮০ শতাংশ। তাদের জন্য উপযুক্ত কাজের পরিবেশসহ সব সুবিধা প্রদানে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।’
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শিদী বলেন, ‘তেলের দাম কমেনি। তবে গ্যাসের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে সঙ্কটও আছে। এ কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। যাদের কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন করে অর্থায়ন করা উচিৎ। একই সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সঙ্গে আমাদের অ্যাডজাস্টমেন্টও করা উচিৎ।’
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন- অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শরিফ আস সাবের।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অংশ নেন- শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন প্রমুখ।

