ঢাকাSunday , 31 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গণহতাশা!

Link Copied!

dhaka-universityনিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমান অবস্থাকে মেলাতে পারছেন না এই ক্যাম্পাসের এক সময়কার উজ্জ্বল মুখগুলো। তাদের কণ্ঠে শুধু হতাশা।
বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহানের ‌‌‘আনট্রাঙ্কুইল রিকানেকশন, দ্য ইয়ারস অব ফুলফিলমেন্ট’ বই নিয়ে শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘দ্য স্ট্রাগল ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপে এমন মূল্যায়নই করেন তারা।
ষাটের দশক থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কীভাবে দেশের রাজনীতিতে পটপরিবর্তনসহ প্র্যাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; যা ছিল নৈতিকতা, মূল্যবোধ, আদর্শ, গণতন্ত্রের পক্ষে ঐক্যমত গড়ে ওঠার স্থান, যেখানে থেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধ বিজয়ের পটভূমি রচিত হয়েছিল; সেই ঢাকা বিশ্বদ্যালয় আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে তাও উঠে এসেছে এই বইটিতে।
বইটির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে দেশের অন্যতম সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তো মার্শাল ল’র বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে, ঐক্যমত্য গড়ে উঠেছিল। সেখানে যে ঐক্যমত্য গড়ে উঠলো যাকে পুঁজি করেই আমরা স্বাধীন হলাম, স্বৈরাচারমুক্ত হলাম। সেখানেই তো বীজ বপন হয়েছিল উচিত কথা বলার; যা তখনকার ছাত্ররা বলতো। আর এখনকার যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সেটা কি আসলেই সেই বিশ্ববিদ্যালয়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায় তা ভাবতে হলে এই বইটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তামুক্ত করতে আমরা স্বাধীনতা আন্দোলনে কাজ করেছি। যার মূল ধারণা ছিল জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক; যা সংবিধান ছিড়ে ফেলে দিলেও পরিবর্তন হবে না। আর এই ধারনাগুলো তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বইটি যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, এই বইটা একটা সমগ্র; যার রয়েছে দুটি ভাগ; প্রস্তুতি ও পূর্ণতা। ১৯৩৬-৫৭ সাল পর্যন্ত ছিল প্রস্তুতিপর্ব। যা পূর্ণতার দিকে এগিয়ে গেছে ১৯৫৭-৭১ সময় পর্যন্ত। ১৯৫৭-৭১ পর্যন্ত সময়কে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করে আকাশ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ, এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনীতি; এ তিনটি বিষয় এ বইতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এ অধ্যাপকও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা করে বলেন, আদর্শ ও তর্কের জায়গা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সমালোচনা তখনো অস্ত্রে প্রবেশ করেই নাই। শিক্ষকদের মেধা, ন্যায়নীতি ও আদর্শ ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। যেগুলো এখন আর নেই।
অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলী খান বলেন, ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ে কীভাবে তিনি (রেহমান সোবহান) সমাজতন্ত্রে আকৃষ্ট হয়েছেন তা একটি অনুকরনীয় বিষয়। তবে এখন সমাজতন্ত্রের তত্ত ও প্রয়োগে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এর দুর্বলতা ও শক্তি নিয়ে পরবর্তিতে আরো একটি বই লেখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পরাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, যখন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ইতিবাচক কথা বলা বা প্রচার করে তাদের সমর্থন আদায়ের প্রয়োজন ছিল তখন সে কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করেছেন রেহমান সোবহান। তিনি তখন পত্রপত্রিকায় লেখালেখিসহ অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধে বহির্বিশ্বের সমর্থন আদায়ে সচেষ্ট ছিলেন।
বইটি নিয়ে আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আরো অংশ নেন, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য, নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাবির অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ অহমদ, বিএনপি নেতা শমসের মুবিন চৌধুরি, রাশেদা কে চৌধুরি, ড.মির্জা আজিজুল ইসলাম, সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রমুখ।