নওগাঁ প্রতিনিধি : খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে বন্ধ চাল কলের নামে নওগাঁর মহাদেবপুরে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা মিলে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ চাল কল, ভুয়া লাইসেন্স ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে খাদ্য বিভাগের লোকজন ওই সব মজুদদারদের কাছ থেকে অতি নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, মহাদেবপুর উপজেলার যেসব মিলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশ হাসকিং মিলই বন্ধ রয়েছে। আবার কোনো কোনো মিল মালিক একাধিক হলারের নামে গুদামে চাল সরবরাহ করছে। মিলের অস্তিত্ব না থাকলেও টাকার বিনিময়ে চাল সরবরাহের সুযোগ করে দিচ্ছেন এ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। আবার খাদ্য গুদামে চাল দিতে গেলে বস্তা প্রতি দিতে হচ্ছে ৩৫ টাকা করে।
এ বছর উপজেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩৮৫ মে. টন। সাধারণ হিসাব মতে ২০ বস্তা সমান ১ মে. টন। অর্থাৎ প্রতি টনে দিতে হচ্ছে ৭শ টাকা। সর্বমোট এই অনিয়মের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ লাখ ৬৯ হাজার ৫শ টাকায়।
উপজেলায় ৩৭৮টি চাল কলের মধ্যে এ বছর খাদ্য সরবরাহের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে ৩৭৩ টি চাল কল। বরাদ্দপ্রাপ্ত মিলে গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ হাসকিং মিলই বন্ধ। তবে এসব বন্ধ চাল কল ৫ থেকে ৭ বছর ধরে খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের সুযোগ নিয়ে সরকারি কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চাল গুদামে বিক্রি করেছে ভুয়া কাগজ দেখিয়ে।
উপজেলার সরস্বতীপুর এসাহাক চাউল কল, রেখা চাউল কল, সাপাহার চাউল কল, মহাদেবপুর-মাতাজিহাট সড়কের পাশে আলআমিন চালকল, হাজী চালকল, ইসমাইল চাল কল, সরদার চালকল, আসলাম চাল কলসহ শতাধিক চাল কলের নামে বরাদ্দ থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে মিলগুলি রয়েছে বন্ধ। এসব চাল সংগ্রহের এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে কোটি টাকা মুনাফা হাতিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরসহ অসাধু ব্যবসায়ীরা।
মহাদেবপুর উপজেলা মিল-মালিক গ্রুপের সভাপতি ওসমান গণি জানান, উপজেলায় এমন অনেক মিল রয়েছে যা বন্ধ থাকার পরও তারা খাদ্য সরবরাহের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। সাধারণত ইরি-বোরো মৌসুমে এইসব মিল চালু থাকে বলেও জানান তিনি।
মহাদেবপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘গুদামে চাল সংগ্রহের সময় কোনো প্রকার টাকা নেয়া হচ্ছে না।’
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাসির উদ্দীন জানান, প্রতিটি মিলের লাইসেন্স, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সঠিক কাগজ পত্র দেখিয়ে তাদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে উপজেলার সকল মিলগুলো পরিদর্শন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

