ঢাকাSaturday , 30 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইস্টার্ন ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ে ‘রহস্য’

Link Copied!

eastern-bankঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : গত আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করে সব ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলেও বিষয়টি স্বীকার করছে না ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে  ইস্টার্নের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত তারা এ খাতের কোনো লেনদেনের রিপোর্টও জমা দেয়নি।
সেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার না করায় গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের ‘রহস্য’ তৈরি হয়েছে এবং একইসঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকটি নিজেদের ব্যবসাকে লাভজনক অবস্থানে নিতে না পারার ব্যর্থতাকে লুকাতেই আসলে এ ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে ব্যাংকটির হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন জিয়াউল করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে আমাদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করিনি। আমাদের এখানে অনেকগুলো পার্ট রয়েছে। তার মধ্যে একটি মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট, যা বন্ধ করা হয়েছে। আমরা ডিসেম্বর ভিত্তিক লেনদেনে আমাদের টোকেন পার্টের যে লেনদেন হয়েছে তার তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রদান করেছি।’
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কোনো ধরনের লেনদেনের তথ্য পায়নি- জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে এত লুকোচুরির কি আছে? আমরা বিষয়টা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা এবং পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের কর্মকর্তা প্রজ্ঞা’র সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করেছি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, ‘আমরা আসলে তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে দুইটি ধাপে তাদের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যার একটি মোবাইল ওয়ালেট অ্যাকাউন্ট। এ ভাগটি তারা বন্ধ করে দিয়েছে। টোকেন অংশে সামান্য কিছু লেনদেন হচ্ছে। তবে ডিসেম্বর ভিত্তিক লেনদেনের যে তথ্য সেখানে ইস্টার্ন ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের কোনোপ্রকার তথ্য তারা দেয়নি।’
তবে কি এ সেবা বন্ধ নাকি চালু- জানতে চাইলে এ নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের সার্ভারে এটার কার্যক্রম বন্ধ বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ তারা যখন আমাদের গত বছরের আগস্টে চিঠি দিয়ে বললো তারা তাদের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়। তখন আমরা আবার তাদের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাইলাম, আসলেই আপনারা এটি বন্ধ করবেন কি না। তারা আবার ফিরতি উত্তরে জানালো- ‘হ্যা আমরা বন্ধ করতে চাই। এর পর থেকে আসলে এটা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
ইস্টার্ন ব্যাংক এম-ওয়ালেট অ্যাকাউন্টসের মাধ্যমে শুধুমাত্র রেমিটেন্স সেবা প্রদান করতো। কিন্তু ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট তাদের আওতাধীন সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার কথা একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়।’
ইস্টার্ন ব্যাংকের জিয়াউল করিম বলেন, ‘আমরা আসলে এ সেবাটি বন্ধ করে আমাদের গ্রাহকের কেওয়াইসি ঠিক করছি। কারণ কেওয়াইসি ঠিক না থাকায় একটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলে আমরা দেখেছি। আমাদের প্রায় দু’হাজার গ্রাহক রয়েছে। আগস্ট থেকে আমরা এদের নিয়ে কাজ করছি। কাজ শেষ হলেই আমরা আবারও পুরোদমে শুরু করবো।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোবাইল ব্যাংকিং দ্রুত জনপ্রিয় হলেও এ সেবা প্রদানে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশের দুইটি ব্যাংক। ব্যাংক দুটি হলো- ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।  প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পেরে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে তারা। ডিসেম্বর ভিত্তিক লেনদেনের তথ্য উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ ব্যাংক এ দুটি ব্যাংকের মোবাইল সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছে। শুধুমাত্র নিজেদের ‘অসফলতা’ ঢাকতেই ইস্টার্ন ব্যাংকের তরফ থেকে বিষয়টি স্বীকার করা হচ্ছে না। এতে গ্রাহকের হয়রানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান অনেকে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রিমিয়ার ও ইস্টার্ন ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২০১২ সালে অনুমোদন নিয়ে স্বল্প পরিসরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছিল। দুটি ব্যাংকই এর মাধ্যমে শুধু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দিত। তবে কোনোভাবেই তা লাভজনক পর্যায়ে আনতে না পারায় শেষ পর্যন্ত নিজেরাই তা বন্ধ করে দিয়েছে।
এ কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত ডিসেম্বরভিত্তিক মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিবেদনে ‘কার্যক্রম শুরু করা’ ব্যাংকের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৮টি। আগের মাস নভেম্বরে যা ২০টি ছিল।
এর আগে ২০১৪ সালের ৬ আগস্ট প্রাইম ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং অনুমোদন বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্যদিকে বেশ আগে অনুমোদন নিলেও কাজ শুরু না করায় একই বছর রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ও জনতা ব্যাংকের অনুমতি বাতিল করা হয়। প্রাইমের অনুমোদন বাতিল করা হয় মূলত এজেন্ট নিয়োগের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে জামানত হিসেবে নেয়া ২৫ কোটি টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করায়।