চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও বিশ্বমানের সব সুবিধাসম্পন্ন ২৪ তলাবিশিষ্ট এ সেন্টার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার এর উদ্বোধন করবেন।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারটি দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে বড় ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩২৭টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হচ্ছে বন্দরনগরী।
উদ্যোগটি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের। বিপণনের জন্য দেশের উৎপাদিত সব পণ্য থাকবে একই ছাদের নিচে। এরইমধ্যে আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সনদও নিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।
নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় ৭৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয় লাখ ৭৮ হাজার বর্গফুটের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ব্যাংক, এক্সিবিশন হল, শপিং মল, ফুড কোর্ট, আইজি জোন, কনভেনশন হল, সভাকক্ষ, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার, হেলথ ক্লাব, ব্যাংকোয়েট হল, বিলিয়ার্ড রুম, স্নুকার রুম, টেনিস কোর্ট ও সুইমিং পুল থাকছে। ভবনের দশম থেকে ২০তলা পর্যন্ত পাঁচ তারকা হোটেলের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভবনের ২১ তলায় থাকছে হেলিপ্যাড।
২৯৮ ফুট উচ্চতার এ ভবন চট্টগ্রামের সর্বোচ্চ ভবন। ২০০৬ সালে এ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হলেও সময় লেগেছে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। বিশ্বের অন্য সব ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের মতো সব নিয়ম-কানুন মেনে নির্মাণ করা হয়েছে এটি।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ এমপি বলেন,‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা হয়। আপনি নিউইয়র্ক, টোকিও, প্যারিসসহ পৃথিবীর সকল বড় বড় শহরে ওয়াল্ড ট্রেড সেন্টার পাবেন। চট্টগ্রাম চেম্বারের এ উদ্যোগ দেশের আর কোথাও নেই। এর ফলে আমাদের ব্যবসা আরও তরান্বিত হবে। আমাদের গার্মেন্স ব্যাবসা আরও ভালো হবে।’
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘কোনো ধরনের ব্যাংকঋণ ছাড়াই প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণ করে আমরা প্রমাণ করেছি আন্তরিকতা থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব। এটি হবে দেশের গর্ব। যা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’
চট্টগ্রাম চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হতে লাইসেন্স ফি বাবদ অ্যাসোসিয়েশনকে প্রতিবছর ১০ হাজার ইউএস ডলার দিতে হয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বারকে। আর প্রতিবছর সদস্য হিসেবে অনুমোদনের জন্য দিতে হয়েছে এককালীন দুই কোটি টাকা। ভবনটির ৫ম তলায় ৪০ হাজার বর্গফুটের এক্সিবিশন হলে ১৩৮টি স্টলে থাকবে রফতানিযোগ্য পণ্যের সম্ভার। অনলাইনে পণ্য দেখে অর্ডার করতে পারবেন ক্রেতারা। তৈরি পোশাক থেকে জুতা, স্টিল সামগ্রী, খাদ্যপণ্য, সিরামিক সবকিছুই থাকবে এ এক্সিবিশন হলে।
চট্টগ্রাম চেম্বারের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে স্বপ্নের এ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার উদ্বোধন করা হবে। এ উপলক্ষে ৫ দিনব্যাপী জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার। আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রথম দিনে হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। আগামীকাল ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন এ ভবন। চট্টগ্রামের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাবিষয়ক একটি বিজনেস সেশন অনুষ্ঠিত হবে ৩১ জানুয়ারি, ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে যুব কনফারেন্স, ২ ফেব্রুয়ারি দেশ-বিদেশের মন্ত্রীদের নিয়ে রাঙ্গামাটিতে হবে পর্যটনের সম্ভাবনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুবছর আগেই দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল না থাকায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পাওয়ার পর গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চেম্বার নেতৃত্ব জরুরি বৈঠকে বসে ৩০ জানুয়ারি উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

