চবি প্রতিনিধি : শাটল ট্রেন থেকে নেমে একটু হাঁটলেই জিরো পয়েন্ট মোড়। মোড়ে এসে ডানে এবং বামের রাস্তা দু’টি এড়িয়ে সোজা পথ ধরে হেঁটে আসলেই শহীদ মিনার। তার ঠিক পশ্চিম দিকের রাস্তাটি হল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভিদ উদ্যানের পথ। ওখান থেকে হেঁটে আসলেই মাঝপথে দেখা মিলবে ‘হতাশার মোড়ের’। তার থেকে কিছুটা সামনে হাঁটলেই দেখা মিলবে চবির এ উদ্ভিদ উদ্যানের ।
এ উদ্ভিদ উদ্যান দেখেই আপনি হয়তো বিস্মিত হবেন! কারণ ১৫ মিনিট ধরে হেঁটে আসার ক্লান্তি আর দেহের হতাশা নিমিষেই ভুলিয়ে দিবে এ উদ্যান । আপনাকে নিয়ে যাবে অপার সৌন্দর্যের অনাবিল স্পর্শে।
উদ্ভিদ উদ্যানে যাওয়ার পথ কেনই বা বের করে দিলাম? এবার শুনুন তা হলে, যারা প্রকৃতি প্রেমী, ফুল আর বৃক্ষের সমারোহ যাদের সবসময় টেনেছে, তাদের জন্য এটি উপযোগি স্থান। ভাবছেন তা কি করে কিবা আছে এ উদ্যানে?
আপনি হয়তো জানেন কিংবা জানেন না, নাম না জানা রঙ-বেরঙের ফুলে সারা বছরই সেজেগুজে থাকে পাহাড় কোলের বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্ভিদ উদ্যান। যেখানে আছে হরেক ধরনের ফলজ, বনজ এমনকি নানা রকমের ঔষধি গাছও।
৬০ একর আয়তনের এ উদ্যানে গেলে পাওয়া যায় অন্যরকম প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়া। যেখানে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ক্লান্তি দুর করতে ছুটে আসে এবং গল্প আর সব আড্ডায় মেতে উঠেন তারা। এ উদ্যান প্রতিনিয়ত বিমোহিত করছে ২২ হাজার শিক্ষার্থী আর শিক্ষকদের ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এটির যাত্রা শুরু হয় সেই ১৯৭৩ সালে। যখন উপাচার্য ড. এম এ আজিজ খান বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিষ্ঠার ৪৩ বছরের মাথায় এ উদ্যান এখন উদ্ভিদ জগতের এক বিস্ময়কর সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।
১৯৭৩ সালে এটির যাত্রা শুরু হলেও সেই ১৯৭৬ সাল থেকেই এ উদ্যানে কাজ করে যাওয়া এমন একজন কর্মচারি মো.আবুল কাসেম। যিনি ৪০ বছর যাবৎ শুধু এখানেই কাজ করে যাচ্ছেন । তিনি জানান,‘উদ্যানে রয়েছে প্রায় ২’শ প্রজাতির উদ্ভিদ। এছাড়াও আছে ছোট-বড় ১৫টি বাগান।
বাগানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ঔষধি গাছ , মৌসুমি ফুল , গোলাপ ও বেত বাগান, হিজল বাগান, আনারস বা কাঁঠালসহ ফলজ বাগানও এখানে রয়েছে । রয়েছে লেবুর বাগানও ।’
তিনি অরো জানান, ‘বছর দুয়েক আগে প্রায় ২০টি মত বাগান ছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ছিল কিন্তু বর্তমানে তা কমে যাচ্ছে । কারণ হিসেবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি না থাকাকেই দায়ি করেন।’
এছাড়া দেশীয় অর্কিডের বিশাল সংগ্রহ একমাত্র চবি’র উদ্ভিদ উদ্যান ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না। দুর্লভ সব অর্কিড নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে এখানে। রয়েছে প্রায় ২০ প্রজাতিরও অধিক অর্কিড।
বাগানে প্রবেশের সময় হাতের ডান দিকে আছে একটি পুকুর, যা নানা রকম জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ। পুকুরটিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে নানা রকম জলজ উদ্ভিদ ।লাল শাপলা, নীল শাপলা, এজালা, হেলেঞ্চা, ক্ষুদিপানা, পানি শিঙাড়াসহ ১০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ রয়েছে এখানে।
মুল উদ্যানে প্রবেশের আগেই হাতের ডানে রয়েছে ছোট একটি পুকুর যেখানে মাছও চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া এখানে আছে ঔষধি বাগানও। উলটকম্বল, ধুতুরা, দাদমর্দন, কালোমেঘ, অর্জুন, নিশিন্দা, থানকুনি, তেলাকুচাসহ আরও অনেক প্রজাতির ঔষধি উদ্ভিদ ।
উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ড.মোহাম্মদ কামরুল হুদা বলেন,‘ এটি মুলত উদ্ভিদ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুবিধার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ,ফলজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে । এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে প্রয়োজনে আরও বাগান ও গাছ লাগানো হবে ।’

