ঢাকাTuesday , 12 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভয়াল সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

Link Copied!

studentনিজস্ব প্রতিবেদক : পদমর্যাদা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘট চলবে শিক্ষকদের দাবি পূরণ না হওয়া অব্দি। শিক্ষক ধর্মঘটের কারণে ক্লাস, মিডটার্মসহ সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যার ফলে ভয়াবহ সেশনজটের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই ঘোষিত বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের পদমর্যদা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় এ কর্মসূচিকে নৈতিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে আন্দোলন করায় শিক্ষকদের সমালোচনাও করেছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অতিদ্রুত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনের উদ্যোগ নেবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসনের চর্তুথবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফের মতে, ‘শিক্ষকরা যদি তাদের আন্দোলনটা অন্যকোনো উপায়ে করেন, আমাদের ক্লাস পরীক্ষাগুলো ঠিকমতো নেন, তাহলে দেখা যাবে আমাদের আর সেজনজটে পড়তে হবে না। এমনেতেই আমরা ৬ মাস পিছিয়ে আছি। এখন যদি আরো সময় নষ্ট হয়, তাহলে বড় ধরনের সেশনজটে আটকে যাবো আমরা।’
শিক্ষকদের আন্দোলনকে সমর্থন ও যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাসের শিক্ষার্থী কবির আবরার বলেন, ‘শিক্ষকদের অসম্মান এটা আমাদেরও অসম্মান। তাদের বিব্রত করা কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারি না। শিক্ষকদের আন্দোলনকে আমি সমর্থন করি. যৌক্তিক মনে করি।’
দাবি পূরণ করে যতোদ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরাতে সরকারের প্রতি জোরলো আহ্বান জানিয়ে কবির আরো বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে নির্ঘাত আমরা সেজনজটে আটকে যাবো। একটা “জট” মানে মিনিমাম ৬ মাস। আমাদেরকে সেজনজটের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের উচিৎ দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে আসার পথ সুগম করা।’
ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ করে এভাবে আন্দোলন করায় শিক্ষকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন কিছু শিক্ষার্থী। তারা মনে করেন, শিক্ষকরা ক্লাস পরীক্ষা চালু রেখেও আন্দোলনের অন্যকোনো উপায় খুঁজে বের করতে পারতেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে ক্ষতিটা আমাদের হবে। সরকার-শিক্ষক দ্বন্দ্বে আমরা কেন পিষ্ট হবো? আমরা তো আমাদের ক্ষতি মেনে নিতে পারি না। যেন এক অনিশ্চিয়তা কবে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হবে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। আমি পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকি। বাড়ি থেকে টাকা-পয়সা দেয় পড়াশোনার জন্য। এখন কি হবে? সেশনজটে পড়লে আমাদের বের হতে সময় বেশি লাগবে। এতে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি অর্থও। শেষে গিয়ে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে। আর সারাজীবন এর ফল ভোগ করতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিগত সাড়ে ৮ মাস সরকারের পদে পদে ধরণা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য বহু ঘুরেছি। কেউ আমাদের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেনি। শুধু শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বসেছেন, কথা বলেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সে আশ্বাসে এখন আর বসে থাকা সম্ভব না।’
তিনি বলেন, ‘৬ ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বলা হয় আমাদের দাবি মেনে নিয়েই গেজেট প্রকাশ করা হবে। যখন গেজেট প্রকাশ হলো, সিদ্ধান্তের কোনো কিছুই নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন আন্দোলনই আমাদের একমাত্র পথ।’
শিক্ষাখাত ও ব্যাংকখাতকে ধ্বংস করার জন্যই এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ওঠে পড়ে লেগেছেন, অভিযোগ করে ফরিদ উদ্দিন আরো বলেন, ‘অষ্টম বেতন স্কেলে টাকা-পয়সা বাড়ালেও সবার মধ্যই ক্ষোভ বিরাজ করছে। কারণ এখানে সম্মানহানি ঘটেছে।’
এটাকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাখাত ও ব্যাংকখাতকে ধ্বংস করার মহাপরিকল্পনায় এটা করা হয়েছে। একটা দেশের শিক্ষাখাত ও ব্যাংকখাত ধ্বংস করতে পারলে দেশকে পঙ্গু করে দেয়া খুব সহজ। বাংলাদেশকে ধ্বংস করার পরিকল্পনার অংশ এটা।’ তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন।
শিক্ষক নেতাদের ধরাণা ঘোষিত অষ্টম বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সপ্তম বেতন স্কেলের তুলনায় গ্রেড-১ প্রাপ্ত শিক্ষকদের হার অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাবে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান স্কেলে গ্রেড-১ প্রাপ্ত শিক্ষকদের থেকে সুপার গ্রেডের দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার কোনো সুযোগ-সুবিধা ও দিকনির্দেশনা এ গেজেটে নেই। এখনো পর্যন্ত সে বিষয়ে কোনো পরিপত্রও জারি করা হয়নি।
২০ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন স্কেল ঘোষণার পর ২ জানুয়ারি দীর্ঘ তিন ঘণ্টার আলোচনায় বসে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। ৩ জানুয়ারি থেকে কালো ব্যাজ পড়ে ক্লাসে যাওয়াসহ নানা কর্মসূচি পালন এবং দাবি পূরণের জন্য ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেয় শিক্ষক নেতারা। তাদের দাবি মানা না হলে ১১ জানুয়ারি থেকে টোটাল শাটডাউনের ঘোষণাও দেয় হয়েছিল তখন। সে ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সোমবার থেকে সারাদেশে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।