গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জ্বালাও পোড়াও করেছে বলেই পৌর নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি। সরকার উৎখাতের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার দায়ে খালেদা জিয়া বিচার হওয়া উচিত। তিনি ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নতি হয়। আমরা তারা প্রমাণ রেখেছি। গণতন্ত্র থাকলে দেশে উন্নয়ন হয়। গণতন্ত্র না থাকলে উন্নয়ন হয় না।’
শুক্রবার দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
এ অনুষ্ঠানের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া শেখ রাসেল শিশু পার্কের উদ্বোধন করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান। সঙ্গে আসেন ছোট বোন শেখ রোহানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছোটবোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর দু’বোন কিছুক্ষণ নিরবে বঙ্গবন্ধুর কবরের বেদীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। পবিত্র ফাতেহা পাঠ শেষে পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা ও ৭৫ এর ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবির হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের আস্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) মুহা. ফারুক খান এমপি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর চাচাত ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাববু আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল বশার খায়ের, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়র মো. ইলিয়াস হোসেন, নব নির্বাচিত মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা, কোটালীপাড়া পৌর সভার মেয়র এইচএম অহিদুল ইসলাম হাজরাসহ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের বঙ্গবন্ধু ভবনে অবস্থান করবেন। বঙ্গবন্ধু ভবনে বসেই প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ মসজিদে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। তিনি সেখানেই জুম্মার নামাজ আদায় করেন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে।

