ঢাকাWednesday , 6 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পশুরের পানি প্রত্যাহার, পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

Link Copied!

sundarbonনিজস্ব প্রতিবেদক : রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে পার্শ্ববর্তী পশুর নদ থেকে ঘণ্টায় ৪ হাজার ঘনমিটার পানি প্রত্যাহার করা নেয়া হবে। এতে নদ ও পাশের সুন্দরবনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষও নদীর নাব্য সঙ্কটের আশঙ্কা করছে।
প্রকল্প এলাকার বায়ু প্রবাহ নিয়েও বির্তক দেখা দিয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, বায়ু প্রবাহের কারণে রামপাল কেন্দ্র থেকে নির্গত ধোঁয়া সুন্দরবনের দিকে যাবে না। তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুর গতির দিক নির্দেশনাটি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। এছাড়া বায়ু প্রবাহ নিয়মিত দিক পরিবর্তন করে।
রামপাল প্রকল্পের জন্য সম্পাদিত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআএ  প্রতিবেদন (পৃষ্ঠা ২৮৫)) অনুসারে কেন্দ্রটি চালু হলে প্রতি ঘণ্টায় পশুর নদের ৯ হাজার ১৫০ ঘনমিটার পানি প্রত্যাহার করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কাজে ব্যবহারের পর ৫ হাজার ১৫০ ঘনমিটার পানি নদীতে ফেরত দেয়া হবে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কারণ প্রত্যাহার করা পানি পশুর নদীর শুকনো মওসুমের মোট প্রবাহের ১ শতাংশেরও কম।
এ পানি প্রত্যাহারে বিষয়ে সম্মতি চেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রি বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) গত বছর মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) কাছে চিঠি দেয়। নাব্য সমস্যা দেখা দিতে পারে এ আশঙ্কায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পানি প্রত্যাহারের অনুমতি দিতে দ্বিধায় ভুগছে। তারা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে  পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ ওয়াটার মডেলিং ইনস্টিটিউটকে (আইডব্লিউএম) বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অনুরোধ করেছে ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. এমদাদ হক আইডব্লিউএমকে জনিয়েছেন, ‘নাব্য সঙ্কটে সাম্প্রতিক সময়ে পশুর নদে পানি প্রবাহ কমে গেছে। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃক পানি প্রত্যাহারের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।’
এ চিঠির ‍উত্তরে বিআইএফপিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি ভট্টাচার্য বিদ্যুৎ বিভাগকে জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রটির নির্মাণ কার্যাদেশ দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এজন্য নদীর পানি প্রত্যাহার বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মতি প্রয়োজন।’
পানি প্রত্যাহারের প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইআইএ প্রতিবেদনেই বিষয়টি বলা আছে। আর পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি অনুমোদনও দিয়েছে।’
এ বিষয়ে পরিবেশবিদ প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা বলেন, ‘প্রতি ঘণ্টায় ৪ হাজার ঘনমিটার পানি প্রত্যাহারের কারণে পশুর নদের প্রতিবেশ এবং এর প্রাণিবৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে নেই।’ তিনি বলেন, ‘পানি সরানোর ফলে লবণাক্ততা, নদীর পলি প্রবাহ, প্লাবণ, জোয়ার-ভাটার মধ্যে পরিবর্তন আসবে, যা প্রতিবেদনে আসেনি। ’
কল্লোল মোস্তফা বলেন, ‘যে পরিমাণ প্রত্যাহার হবে তা শুকনো মওসুমের মোট পানিপ্রবাহের ১ শতাংশেরও কম- এই যুক্তিতে বিরূপ প্রভাবের কোনো বিশ্লেষণ করা হয়নি যা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ইআইএ প্রতিবেদনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আট বছরের পুরনো (২০০৫ সালের) তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ইআইএ প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার (২০১৩) পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজ এখনো শুরু হয়নি। কাজ শুরু হলে কেন্দ্রটি নির্মাণে সময় লাগবে সাড়ে ৪ বছর এবং এর জীবনকাল ধরা হয়েছে অন্তত ২৫ বছর। এই দীর্ঘ সময় জুড়ে পশুর নদের পানিপ্রবাহ নিশ্চয়ই একই থাকবে না। এ বিষয়গুলো সম্পর্কে ইআইএ প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।’
ইআইএ প্রতিবেদনেও পানি প্রবাহ কমার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের ২৫০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ‘নদীর উজানে শিল্প, কৃষি, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে নদী থেকে দিনে দিনে পানি প্রত্যাহারের পরিমাণ বাড়ছে ।। যার ফলে শুকনো মৌসুমে পশুর নদের পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে, যা চিন্তার বিষয়।’
তবে পানি প্রত্যাহারে নদের প্রবাহে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নাজমুল আহসান বলেছেন, ‘যেটুকু পানি নদীতে ছাড়া হবে তা পরিশোধন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করেই ছাড়া হবে। ফলে নদীর মাছসহ পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে পদ্ধতিতেই পানি শোধন করা হোক না কেন তাতে ক্ষতিকর পদার্থ থাকবেই। তাই অন্যদেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেলায় শূন্য নির্গমন (জিরো ডিসচার্জ) নীতি মেনে চলা হয়। অর্থাৎ যে পরিমাণ পানি নেয়া তা আর ফেরত দেয়া হয় না।
এ বিষয়ে ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়গড় এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইআইএ প্রতিবেদনের উদাহারণ দিয়ে কল্লোল মোস্তফা বলেন,  ‘রামপাল প্রকল্পের অংশীদার ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়া কোম্পনি (এনটিপিসি) নিজ দেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ‘জিরো ডিসচার্জ’ নীতি অনুসরণ করে।’
বায়ু প্রবাহের বিভ্রান্তি
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,  রামপাল প্রকল্প এলাকা থেকে বছরের কোনো সময়ই বায়ুপ্রবাহ সুন্দরবনের দিকে যায় না। সুতরাং বিদ্যুৎকেন্দ্রে থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থ বায়ুর সঙ্গে সুন্দরবনের দিকে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ইআইএ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিআইএফপিসিএলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নবেন্দু লোদ বলেন, ‘আবহাওয়া অদিদপ্তরের তথ্য অনুসারে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রামপাল থেকে বাতাস উত্তর দিক হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হবে। আর সুন্দরবনের অবস্থান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থান থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। এ তথ্য অনুসানে ধোঁয়ার সঙ্গে নির্হত পদার্থ দ্বারা সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বললেই চলে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বছরের বাকি সময় (মার্চ থেকে অক্টোবর) বায়ু প্রবাহ থাকবে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে, অর্থাৎ  সুন্দরবনের উল্টো দিকে।  তাই ধোঁয়া বনের দিকে যাবে না।’
তবে বায়ু প্রবাহ নিয়মিত দিক পরিবর্তন করে বলে স্বীকার করেন নবেন্দু।
এ বিষয়ে তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ, ‘বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘সুন্দরবন যে চার অঞ্চলে বিভিক্ত তার মধ্যে শরণখোলা পড়েছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। আর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রয়েছে খুলনা ও সাতক্ষীরার অংশ,। ফলে বায়ু বছরে কোনো না কোনো সময় সুন্দরবনের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবেই। ’
পরিবেশবাদিরা বলছেন, বছরের অন্য সময় বায়ু সুন্দরবনের দিকে না খুলনা-বাগেরহাট শহরের দিকে প্রবাহিত হবে, যা এ অঞ্চলের জনবসতির জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনবে। কারণ খুলনা-বাগেরহাট রামপাল প্রকেল্পের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে পড়েছে।