ঢাকাWednesday , 6 January 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

২০১৬-তে আন্তর্জাতিক রাজনীতির ১০ ঝুঁকি

Link Copied!

policআন্তর্জাতিক ডেস্ক : সদ্য বিদায় নেয়া ২০১৫ সালটি খুব একটা ভালো যায়নি। নানা কারণে বিভিন্ন সংকটে পূর্ণ ছিল বছরটি।
প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলা, নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্প, গত ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের শরণার্থী
সমস্যা এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ছিল বছরটি।
এদিকে ২০১৬ সালটিও শুরু হয়েছে অনেক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। বিশ্বে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে কোনো
প্রকার কৌশলগত পরিকল্পনা ছাড়াই যাত্রা শুরু করেছে নতুন বছরটি। নানা রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে
বছরটিতে। রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার এবং তার গবেষক দল ইউরেশিয়া গ্রুপ চলতি বছরের
এমন ১০টি প্রধান রাজনৈতিক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন।
১০. তুরস্ক সমস্যা: সংসদের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে একাই দেশের নীতি নির্ধারকের
ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে
দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। কমে যেতে পারে বিনিয়োগ।
এছাড়া, আইএসের বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করতে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ  তুরস্ককে আইএসের হামলার লক্ষ্যে পরিণত করবে।
০৯. গ্রিসের নির্বাচন: ধীরগতির প্রবৃদ্ধি এবং জীবন যাত্রার নিম্ন মানের কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে আছে গ্রিসের
জনগণ। সরকারের প্রতি তাদের অনুভূতি জানার জন্য চলতি বছরে দেশটিতে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি নির্বাচন।
ধারণা করা হচ্ছে, এসব নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গ্রিসে শান্তি ফিরে আসবে। তবে ব্রেমার সতর্ক করে দিয়ে
বলেছেন, এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। নির্বাচন যথাযথভাবে না হলে রাজপথে গড়াতে পারে বড় ধরনের আন্দোলন।
০৮. ব্রাজিল সংকট: দক্ষিণ আমেরিকার ‘পাওয়ার হাউজ’ বলা হয় ব্রাজিলকে। দেশটিতেও বর্তমানে চলছে সংকট। রাজনৈতিক সংকট থেকে নিজেদের উত্তরণ ঘটাতে চাইছে তারা। চাইছে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ঘাটতি কমিয়ে আনতে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ যদি ক্ষমতায় নাও থাকে এবং তার স্থলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল টিমার যদি ক্ষমতা গ্রহণ করে তাতেও দেশটির চলমান অর্থনিতক সমস্যার সমাধান হবে না।
০৭. অনিশ্চিত বিশ্ব রাজনীতি: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এ বছরটি যাবে অনেকটা অনিশ্চিতভাবে। কারণ বিশ্ব নেতাদের আচরণ বর্তমান সময়ে খুব একটা স্থির না। নানা কারণে তারা উত্তেজিত।
তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোগানসহ সৌদি আরবের ডেপুটি ক্রাউন মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো প্রশেঙ্কোর সাথে ভয়ানক খারাপ যাচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্পর্ক। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অনেক বিশ্ব নেতার আচরণই হেয়ালিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।
চার শক্তিধর এবং সংকটপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্কের কারণে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
০৬. প্রযুক্তিবিদদের উত্থান: ১০টি প্রধান রাজনৈতিক সমস্যার মধ্যে একটি হচ্ছে রাজনীতিতে অরাজনৈতিকদের হস্তক্ষেপ। এটা সবচেয়ে বেশি ঘটতে পারে হ্যাকারদের দ্বারা। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কারণেও নানা রকম রাজনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
০৫. সৌদি আরব সংকট: দেশটি দিন দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। রাজপরিবারে চলছে তীব্র অন্তর্কোন্দল। সেই সাথে আরব অঞ্চলে আরো বেশি আগ্রাসী হয়েছে দেশটি। সম্প্রতি বাদশাহ সালমানের সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে ইরানের সাথে সম্পর্ক আরো বেশি খারাপ হয়েছে সৌদি আরবের। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত বেঁধে যেতে পারে দেশ দুটির সাথে।
০৪. আইএস সমস্যা: জঙ্গি সংগঠন আইএস মোকাবেলায় কেউই যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
সংগঠনটিকে ঠেকাতে সবার প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও তা কোনো কাজে আসছে না। ইউরেশিয়া গ্রুপের গবেষণায়
বলা হয়েছে, ‘২০১৬ সালেও এ সমস্যাটি অমিমাংসিত থেকে যাবে।’ তাদের হিট লিস্টে শীর্ষ অবস্থানে আছে ফ্রান্স, তুরস্ক, সৌদি আরব, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র।
০৩. চীন: বিশ্বের একমাত্র দেশ যাদের একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বের যেকোন ঘটনার ক্ষেত্রে চীন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্রামারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ বিশ্বশক্তিই বিভিন্ন বিষয়ে চীনের সাথে একমত হতে পারে না।
০২. ইউরোপ: ব্রেমার মনে করেন ইউরোপ তার অর্থনৈতিক সমস্যা কাটিয়ে উঠবে। তবে এর জন্য তাদের সীমান্ত খোলা রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও বেশিরভাগ লোক মনে করেন, যুক্তরাজ্য ইউতে থাকবে।
০১. যুক্তরাজ্য-জার্মানি শূন্যগর্ভ বন্ধুত্ব: এক সময়ের গভীর ঘনিষ্ঠতাসম্পন্ন সম্পন্ন দুই মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির সম্পর্ক বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ যাচ্ছে। ইউরোপের পক্ষে কোনো ব্যাপারে আর হস্তক্ষেপ করছে না যুক্তরাষ্ট্র। ভবিষ্যতেও ইউরোপের কোনো বিষয়ে দায়িত্ব নেবে না তারা।