ঢাকাWednesday , 9 December 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ হচ্ছে না ক্ষুদ্র-মাঝারিখাতে

Link Copied!

bangladesh-bankঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ৩০ অক্টোবর ২০১৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ১ বছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি) খাতে ঋণ বিতরণ করেছে ৮১ হাজার ৯৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। মোট ঋণ বিতরণের পরিমান বাড়লেও তা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম এবং আগের বছরের চেয়েও ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ কম। এ বছরটিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর ২০১৩ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত সময়ে এ খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার ৮১ দশমিক ০২ শতাংশ। আর আলোচ্য সময়ে বিতরণ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে থাকলেও আগের বছরের তুলনায় সেবা, ব্যবসা ও শিল্প সবগুলোখাতেই ঋণ বিতরণ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ বিতরণ বেড়েছে সেবাখাতে। এ খাতে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা বেশি। ঋণ গ্রহীতার মধ্যে ১ হাজার ৬০৬টি নতুন প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। এ খাতে মোট ঋণ গ্রাহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৩২০টিতে।
১৩ দশমিক ৫৮ ও ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ বেড়েছে ব্যবসা ও শিল্পখাতে। এ দুটি খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৫২ হাজার ৪২৭ কোটি ৬৩ লাখ ও ২১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ দুটি খাতে ঋণ দেয়া হয়েছে মোট ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭২টি প্রতিষ্ঠানকে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে বড় গ্রাহকের পেছনে ঋণ দেয়ার জন্য তোড়জোড় কমিয়ে দিচ্ছি। এখন আমরা নতুনভাবে এসএমই খাতের মধ্যে শিল্প অর্থাৎ উৎপাদনমুখীখাতকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। এছাড়া ব্যবসা তো আছেই। এখাতে সব সময়ই একটা বড় চাহিদা থাকে।’
দেশে অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ এক বছরে ঋণ বিতরণ করেছে ৭৯ হাজার ২১৭ কোটি ৩২ লাখ টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বেশি। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণ করেছে ২ হাজার ৭৩৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ৯৯১ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেশি। সেবা, ব্যবসা ও শিল্পখাতে এ সময়ে মোট ঋণপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।
প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, আলোচ্য বছরটিতে নারী উদ্যোক্তাখাতে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে ৭৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও কমেছে মোট ঋণ বিতরণের পরিমান। এ সময়ে মোট ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫২১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ০৪ শতাংশ বা ১৩৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা কম। নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সেবা ও ব্যবসাখাতে ঋণ বিতরণ আগের তুলনায় কমেছে ২১ দশমিক ১৮ ও ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে শিল্পে বিতরণ বেড়েছে ২৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
আলোচ্য সময়ে কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ঋণ বিতরণের পরিমান ৫ হাজার ১১০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ১৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। গ্রামাঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি।
বর্তমান সময়ে কোন খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, ‘আমরা এসএমইতে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করছি। এর মধ্যে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাত। এগুলোতে ঋণ বিতরণ আগের চেয়ে বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি যে খাতে ঋণ যাচ্ছে সেটি হলো শিল্পখাত। উৎপাদনমুখী খাত বলে এতে আমরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি। কারণ, একটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়।’