অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের নভেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলের মধ্যমে প্রবাসী-আয় বা রেমিটেন্স এসেছে ১১৩ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। যা তার আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বেশি। অক্টোবরে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল ১০৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
নভেম্বরে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও বরাবরের মতই তলানিতে পড়ে আছে এনআরবি (প্রবাসী উদ্যোক্তাদের গঠিত ব্যাংক)। এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক তিনটিকে রেমিটেন্সের আন্তঃপ্রবাহ বৃদ্ধির শর্তে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল অনুমোদন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে অনুমোদন পাওয়া এ ব্যাংকগুলো এখন পর্যন্ত রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে সক্ষম হয়নি। এখন পর্যন্ত কোন একটি ব্যাংকের মাধ্যমে একক মাসে ১ কোটি ডলারের সমপরিমান রেমিটেন্স দেশে আসেনি।
নভেম্বর মাসে এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক তিনটি মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে যথাক্রমে ৩ লাখ ৩০ হাজার, ৪০ হাজার ও ৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী দেওয়ান মুজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি করছি। যেসব জায়গা থেকে বেশি রেমিটেন্স আসে সে জায়গাগুলো আমরা এখনো কাভার করতে পারি নাই। তবে আমরা ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছি। যে কারণে এখনো রেমিটেন্স সেভাবে আসছে না। আমাদের এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ব্যালেন্স শিট হয়েছে। ডিসেম্বর নাগাদ আরো একটা হবে। এগুলো দেখে আমাদের ওপর যখন আস্থাটা বাড়বে তখনই আমরা বেশি এগ্রিমেন্ট করতে পারবো।’ এরপরই আসলে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে রেমিটেন্স বেশি আসলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স কমেছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। গত বছরের নভেম্বরে রেমিটেন্স এসেছিল ১১৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।
এ নিয়ে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) প্রবাসীদের পাঠানো মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১৬ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ কোটি ২৪ লাখ ডলার কম। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৬২১ কোটি ২০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৩৩ কোটি ২৬ লাখ মার্কিন ডলার। ৩৬টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৭৭ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার।
বরাবরের মতো নভেম্বরেও সব চেয়ে বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। ব্যাংটির মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ২৫ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার।
আলোচ্য সময়ে বিশেষায়িত বেসিক ব্যাংক, বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিদেশি হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো রেমিটেন্স দেশে আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। এর আগের ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রবাসীরা পাঠিয়েছিল ১ হাজার ৪২২ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স। ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রবাসীরা মোট ১ হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন।
বর্তমানে ১৫৭টি দেশে ৮৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের এপ্রিলে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ, ট্রেজারি বন্ড ও সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ানোর শর্তে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের আবেদিত তিনটি এনআরবি ব্যাংকের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। অনুমোদিত ব্যাংক তিনটির একটি হচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড ও অপর দুটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনআরবি ব্যাংক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেড।

