অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ২০৩৩ সালে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) রিসার্চ আলমানাক ২০১৪-১৫ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিআইডিএসেরে এক বছরের গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে এ তথ্য জানান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক বিনায়ক সেন।
তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্ত শ্রেণী নির্ধারণে সর্বজনস্বীকৃত কোনো সংজ্ঞা নেই। সাধারণত কারো দৈনিক আয় ২ ডলার থেকে ৩ ডলার হলে সে মধ্যশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। আর ৩ থেকে ৪ ডলারের মধ্যে হলে উচ্চ মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ হিসাবে ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে যেখানে ৯ ভাগ জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত ছিল, এখন এ সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ২০ ভাগে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ২৫ ভাগ ও ২০৩৩ সালে ৩৩ ভাগ হবে।’
বিনায়ক সেন বলেন, ‘ভারতে বর্তমানে মধ্যবিত্ত শ্রেণী ২৪ দশমিক ১ ভাগ। দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে এ সংখ্যা ২৫ দশমিক ৮ ভাগ। অপরদিকে চীনে তা ৬১ দশমিক ৮ ভাগ, দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় ৫৯ দশমিক তিন ভাগ। ল্যাটিন আমেরিকায় এ সংখ্যা ৬৫ দশমিক ৮ ভাগ।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন বড় ধরনের আন্দোলন কার্যক্রম শুধুমাত্র শ্রমিকশ্রেণীর ওপর নির্ভর করে না, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অংশগ্রহণের উপরও নির্ভর করে।’
মধ্যবিত্তরা এখন আর শুধুমাত্র চাকরিনির্ভর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মধ্যবিত্তের এক পঞ্চমাংশ এখন পেশায় ব্যবসায়ী। রেমিটেন্স আয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা একবারে কম থাকায় গ্রামীণ আয়বৈষম্য কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মধ্যবিত্তের আকার বড় হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যবিত্ত সম্পর্কে আমাদের তথ্য জানা দরকার। মধ্যবিত্ত যত শক্তিশালী হবে অর্থনীতি তত টেকসই হবে। এজন্য সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থার পরিবর্তন করে উপরের ধাপে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে।’
বিআইবিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুর্শিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

