স্পোর্টস ডেস্ক : যৌন কেলেঙ্কারি তার জীবনে নতুন নয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে তার বিরুদ্ধে উঠেছিল ধর্ষনের অভিযোগ। তবে সেই কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে আলোর পথেই ধাবিত হচ্ছিলেন করিম বেনজামা। তবে পিছু ছাড়েনি অতীতের বাজে অভ্যাস। ২০১০ বিশ্বকাপে যৌন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসে গিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি স্ট্রাইকার। সেই জের ধরে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তিনি নাকি সেক্স টেপ বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। আর সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বুধবার ফরাসি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে করিম বেনজামাকে।
ভার্সাইয়ের স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় থানায় হাজির হতে হয় রিয়াল মাদ্রিদ তারকাকে। এর পর সেখান থেকে আদালতে নেওয়া হয়। ফৌজদারি তদন্ত চলছে ফরাসি স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফরাসি আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল হতে পারে বেনজামার। আর তা হলে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে ২৭ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকারের।
তবে এই মামলার সঙ্গে বেনজামার সম্পৃক্ততা কতটুকু, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ আসল কাহিনী ঘটিয়েছেন বেনজামার সতীর্থ ম্যাথিউ ভালবুয়েনা। ফ্রান্সের এক ম্যাচ উপলক্ষে জাতীয় দলে সব ফুটবলার একসঙ্গে হোটেলে ওঠার পর ঘটনাটি ঘটে। ভালবুয়েনা একটি সেক্স টেপ করেন। যে সেক্স টেপটি কোনোভাবে কিছু ব্ল্যাকমেলারদের হাতে চলে যায়। লিওঁর ফুটবলার ভালবুয়েনাকে এরপর ফাঁদে ফেলে হুমকি দেওয়া হয়। বড় অঙ্কের টাকা না দিলে সেক্স টেপটি ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে এখানে বেনজামা কেন দোষী? প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে ধারণা করা হচ্ছে যারা ব্ল্যাকমেল করছে, তাদের সঙ্গে বেনজেমার এক আত্মীয়ের যোগসূত্র আছে। আর সে কারণেই বেনজামাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
ব্ল্যাকমেলের এই মামলা গত জুলাইয়ের শেষের দিকে দায়ের করা হয়। অক্টোবরে সন্দেহভাজন তিন ব্ল্যাকমেলারকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করে। কিন্তু মামলার কোন কূল কিনারা এখনও করতে পারেনি ফরাসি পুলিশ। এবার বেনজামার গ্রেপ্তারের পর মামলা কোন দিকে যায়, তাই যেন দেখার বিষয়।

