স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্ট ক্রিকেট যে এখনো মরে যায়নি পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ সেটির জ্বলন্ত উদাহরণ। দুই দলের মধ্যকার আবু ধাবি ও দুবাই টেস্ট শেষ দিনের শেষ মুহূর্তে নিষ্পত্তি হয়। আবু ধাবি টেস্টের শেষ দিনের শেষ ঘণ্টায় জয় থেকে হাত-ছোঁয়া দূরত্বে ছিল ইংল্যান্ড। আলো-স্বল্পতার কারণে দিনের শেষ ৬ ওভার খেলা না হওয়ায় জয়বঞ্চিত হয় অ্যালেস্টার কুকের দল।
এরপর দুবাই টেস্টের শেষ দিনও চরম নাটকীয়তা নিয়ে উপস্থিত হয়। টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের মধ্যাহ্ন বিরতির আগে পাকিস্তানের জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে ইংল্যান্ডের টেল-এন্ডার ব্যাটসম্যানরা পাকিস্তানকে জয়বঞ্চিত করে রোমাঞ্চকর ড্র উপহার দেয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
যদিও শেষ রক্ষা করতে পারেনি ইংল্যান্ড। দিনের ৬ ওভারের মতো খেলা বাকি থাকতে ইংলিশদের শেষ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে অবিস্মরণীয় ও রোমাঞ্চকর এক জয় এনে দেন স্পিনার ইয়াসির শাহ।
শারজাহ টেস্টও একই পরিণতির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। ম্যাচের বর্তমান যেই অবস্থা তাতে করে মনে হচ্ছে আবু ধাবি ও দুবাই টেস্টের মতো শেষ দিনের শেষ মুহূর্তে এই টেস্টের ফলাফল নির্ধারণ হবে। শারজাহ টেস্টের চতুর্থ দিনের অর্ধেক পেরুনোর পর সমান্তরালে রয়েছে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। মোহাম্মদ হাফিজের ১৫১ রানের নান্দনিক ইনিংসের ওপর ভর করে নিজেদের লিড ২০০ রানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মিসবাহ-উল-হকের দল।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রথম ইনিংসে ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ২৫৯ রান সংগ্রহ করেছে। আসাদ শফিক ৯ ও সরফরাজ আহমেদ ২ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে আপাতত পাকিস্তানের লিড ১৮৭ রান।
ওপেনিংয়ে নামা মোহাম্মদ হাফিজ ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৬৬ বলে ১৫১ রানের নান্দনিক এক ইনিংস উপহার দেন। তার ইনিংসটি ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো। এছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসে মিসবাহ (৩৮) ও আজহার আলি ছাড়া আর কেউ ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো পর্যন্ত জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। হাফিজের মহামূল্যবান উইকেটটি নেন স্পিনার মঈন আলি।
বুধবার টেস্টের চতুর্থ দিন ৩ উইকেটে ১৪৬ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। দিনের শুরুতেই আগের দিন নাইট-ওয়াচম্যান হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামা রাহাত আলিকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরানোর স্বপ্ন দেখান জেমস অ্যান্ডারসন। তবে পাকিস্তান পাল্টা আঘাত হানতে খুব বেশি সময় নেয়নি। পঞ্চম উইকেটে মিসবাহ ও হাফিজ মিলে ৯৩ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেন।
এরপর পাকিস্তান শিবিরে জোড়া আঘাত হেনে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান মঈন আলি ও স্টুয়ার্ট ব্রড। ২৪৫ থেকে ২৫৭- এই ১২ রানের মধ্যে মিসবাহ ও হাফিজকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে ম্যাচের লাগাম এনে দেন ব্রড ও মঈন। মিসবাহকে লেগ বিফোরে ফাঁদে ফেলেন ব্রড। আর হাফিজকে ইয়ান বেলের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান মঈন আলি। ম্যাচের যেই অবস্থা তাতে করে রোমাঞ্চকর সমাপ্তি আশা করতেই পারেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের করা ২৩৪ রানের জবাবে ইংল্যান্ড গুটিয়ে যাওয়ার আগে ৩০৬ রান সংগ্রহ করে। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে মিসবাহ-উল-হক সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন। এছাড়া সরফরাজ ৩৯ ও শোয়েব মালিক করেন ৩৮ রান। ইউনিস খানের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান।
ইংল্যান্ডের হয়ে প্রথম ইনিংসে জেমস অ্যান্ডারসন চারটি উইকেট লাভ করেন। দুটি করে উইকেট নেন সামিত প্যাটেল, মঈন আলি ও স্টুয়ার্ট ব্রড।
প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ৩০৬ রানের সংগ্রহ এনে দিতে টপ-অর্ডার ও মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা মাঝারি মানের ইনিংস খেলেন। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে জেমস টেইলর সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। এছাড়া অ্যালেস্টার কুক ৪৯, জনি বেয়ারস্টো ৪৩, সামিত প্যাটেল ৪২ ও ইয়ান বেল করেন ৪২ রান।
বড় সংগ্রহের পথে থাকা ইংল্যান্ডকে কম রানে বেধে ফেলতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন শোয়েব মালিক ও ইয়াসির শাহ। মালিক চারটি এবং ইয়াসির নেন তিনটি উইকেট। রাহাত আলি নেন দুটি উইকেট।
প্রসঙ্গত, তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে আপাতত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান। টেস্ট সিরিজের পর পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড চারটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে।

